আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীদের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ তরুণ। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থীদের হলফনানা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শতাংশের হিসাবে মোট প্রার্থীর ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তারুণ্য এমন একটি সময়, যেখানে সৌন্দর্য, সজীবতা, উদ্দীপনা ও সৃজনশীলতা বিদ্যমান থাকে। এটি সাহসিকতা, নতুন কিছু সৃষ্টি ও সংস্কারের সময়, যা সমাজকে এগিয়ে নিতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এই সময়েই তরুণরা নিজেদের সাহসী ও সৃষ্টিশীল সত্তা হিসেবে গড়ে তোলে এবং নতুন পথ তৈরি করে।
প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ১৭৯ জন, যা মোট প্রার্থীর ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রার্থী রয়েছেন ৩৯৭ জন, যা মোট প্রার্থীর ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনই যুবক ও তরুণ। তবে সংখ্যার হিসাবে তরুণদের বেশি মনোনয়ন দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। আর সবচেয়ে কম মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
ইসলামী আন্দোলনের ২২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৭ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। আর বিএনপির ২৯১ প্রার্থীর মাত্র ১৮ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের ৭৮ প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ জনেরই বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। জামায়াতের ২৭১ জন প্রার্থীর মধ্যে এই বয়সসীমায় রয়েছেন ৪৯ জন। এনসিপির ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনই যুবক ও তরুণ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৭০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৭ জন এবং জাতীয় পার্টির ১৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। এর বাইরে বাকি দলগুলো থেকে ৫৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যেও ২০১ জন তরুণ বা যুবা রয়েছেন।
এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১১৮ জন। তাদের মধ্যে তরুণ রয়েছেন ১৭ জন।
৩০০ আসনে ভোটে লড়তে জমা পড়া দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে বাছাইয়ে বৈধ হয় এক হাজার ৮৪২টি।
এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থী ও তরুণ ভোটারের আধিক্য থাকাকে আশাবাদী হওয়ার মতো বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান এ শাফী।
তিনি বলেন, ‘প্রার্থী ও ভোটারের মধ্যে তারুণ্যে অধিক্য থাকায় তারা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারে। বর্তমান তরুণরা রাজনীতি সচেতন। তারা যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারে, তবে পরিবর্তন আসবে।’
প্রার্থী তালিকায়ও তারুণ্যের উপস্থিতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তরুণরা সংসদ, সরকার বা রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব দারুণ সম্ভাবনার সূচনা করেছে। কিন্তু বাস্তব পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নীতি-প্রক্রিয়া সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’



