― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মোসাব্বির হত্যা: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও, সেনাবাহিনীর টহল

রাজধানীর ফার্মগেটের তেজতুরি বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যায় জড়িতদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পায়নি পুলিশ। তাকে হত্যার প্রতিবাদে তেজগাঁও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।

অপরদিকে, মোসাব্বির খুনের পর কাওরানবাজারের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল থেকে সেনা বাহিনী বাজারে অবস্থান নিয়ে ডিউটি করছে। কাওরানবাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ি শেড নির্মান করেছে। অস্থায়ি শেডে এক প্লাটুন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সদস্যরা সেখান থেকে মাঝে মধ্যেই টহল দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ( ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বিকালে বলেন, মোসাব্বির হত্যায় জড়িতদের সনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজের তথ্য যাচাই চলছে। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য, ভিডিও ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে। হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া দুজনকে শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তারা সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে বের হওয়া তেজগাঁও এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। কিলিং মিশনে অংশ নেয়া একজন ঘটনার পর ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছে হোয়াটসআপে কল করে মোসাব্বিরের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানায়। এরপরই কিলিং মিশনে অংশ নেয়া গ্রুপটি ঢাকার বাইরে চলে যায়। এই গ্রুপটি সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজে ছাত্রদল নেতা রানা হত্যার সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে এর মধ্যে কাওরানবাজারে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রনের বিরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

পুলিশ আরো জানায়, কাওরানবাজারের মাছের আড়ত, সবজির গলি, লাল বিল্ডিংয়ের সামনের ফুটপাত, জনতা মার্কেট, সোনালি ফিশ মার্কেট, ইলিশের গলিসহ গোটা কাওরানবাজারে ৪শ দোকানের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন নিয়ে মোসাব্বিরের সাথে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতার দ্বন্দ্ব ছিল। এই ৪শ দোকান থেকে মাসে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। চাঁদাবাজির ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বহিষ্কৃত ওই যুবদল নেতার সাথে মোসাব্বিরের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বহিষ্কৃত ওই যুবদল নেতারা সাথে তেজগাঁও এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি কাওরানবাজারে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে চাঁদাবাজদের একটি গ্রæপ হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর কাওরানবাজারের ফুটপাতের দোকানের বিদ্যুত সরবরাহের লাইনের নিয়ন্ত্রন মোসাব্বিরের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে দুই গ্রুপটির মধ্যে চরম দ্বদ্ব দেখা দেয়।

তবে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম দাবি করেছেন, তার স্বামীকে (মোসাব্বির) আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কেউ। খুন হওয়ার আগে তিনি (মোসাব্বির) আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাকে যে কোনো সময় খুন করা হতে পারে।

সুরাইয়া বলেন, ‘মাঝে মধ্যেই মোসাব্বির বলতেন- ‘যে কোনো সময় ওকে মেরে ফেলতে পারে। অনেক শত্রু তৈরি হয়ে গেছে তার। কে কোন দিন তাকে মেরে ফেলবে, সেটা বলাও যাবে না- এমন কথাও বলতো।’

তবে পরিবারকে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতেন না বলে উল্লেখ করেন তার স্ত্রী বলেন, হুমকি পেলেও তার স্বামী থানায় জিডি করেননি।
মোসাব্বির সব সময় সতর্কভাবে চলাফেরা করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও গেলে সঙ্গে লোকজন রাখতেন। বুধবার প্রথমবার তার ওপর সরাসরি হামলা হলো। বুধবারতার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা ছিল। রাজনৈতিক সভার কারণে সামপ্রতিকসময়ে প্রায়ই তার বাসায় ফিরতে দেরি হতো। দেরি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানাতেন।


হত্যার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে মোসাব্বির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তেজগাঁও থানা ঘেরাও করে মিছিল করেন নিহতের স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের প্রতিবাদ জানান তারা।

দুপুরে ঘটনাস্থল তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলি থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কাওরান বাজার মোড় হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল তেজগাঁও থানার ওসির সাথে দেখা করে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান।
এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু মারমা বলেন, মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা। জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নিহতের পরিবার ও আমজনতা দলের প্রধান তারেকসহ স্থানীয়রা এসেছিলেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, ঘটনাস্থলের বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের পরিচয় প্রকাশ ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

শুটারদের চেহারা আরও স্পষ্ট

মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুটারকে নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন সিসিটিভি ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে, যেখানে শুটারদের চেহারা আরও স্পষ্ট। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ক্যশৈনু মারমা এ তথ্য দিয়ে জানান, কী কারণে এ হত্যা, তা নিশ্চিত নয়। তবে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।

মুসাব্বিরের বাড়িতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মুসাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বিকালে বসুন্ধরা মার্কেটের পিছনে গার্ডেন রোডের কাজীপাড়ার ১৬/সি নম্বর বাড়িতে মুসাব্বিরের পরিবারের সাথে দেখা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তিনি মোসাব্বিরের স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাইকে সান্তনা দেন।

তিনি বলেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছি। যারা গণতন্ত্র চায় না, নির্বাচন চায় না– সেরকম কোনো শক্তি এর পেছনে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।