দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত করেছে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন পাঁচ জন। বাংলাদেশে এই রোগে মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ।

গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) মহাখালীর আইইডিসিআর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকি’—বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ভাইরাসজনিত এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা এখন পর্যন্ত আবিস্কার না হয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। দেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন।

এছাড়া, খেজুর রস পান করার দুই থেকে ২৮ দিনের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানাচ্ছেন আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলছেন, ‘কাঁচা খেজুরের রস কিংবা পাখির খাওয়া অর্ধ ফল খেয়ে কারো জ্বর এলে, তাকে অন্যের সংস্পর্শ ছাড়া, আলাদা থাকতে হবে কমপক্ষে ২২ দিন।
দেশে নিপাহ ভাইরাসের পরীক্ষা অনেকটাই ব্যয়বহুল। এই রোগের পরীক্ষা কেবল আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবি ছাড়া দেশের অন্য কোথাও হয় না।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইইডিসিআর)-এর সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।
তিনি আরো জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
• কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না
• আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া যাবে না
• ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে
• নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে
• আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।



