― Advertisement ―

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পাশে থাকার ইঙ্গিত ভারত ও পাকিস্তানের

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আসা এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হলেও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এটিকে নতুন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একইভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিকার আইয়াজ সাদিকের সাক্ষাৎ-ও সেই বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের এ সাক্ষাৎকে সব বিবেচনায় ইতিবাচক হিসাবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।

বাংলাদেশে আগামীতে যে দলই সরকার গঠন করুক ভারত ও পাকিস্তান তাদের সঙ্গে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে তা অদূর ভবিষ্যতে নতুনভাবে তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

মূলত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তারেক রহমানের দেশে আসাকে কেন্দ্রকরে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে দেশে। খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত বুধবার ভারত থেকে ঢাকায় আসেন জয়শঙ্কর।

তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আইয়াজ সাদিক বাংলাদেশে এসে সে দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, ফিল্ড মার্শালের পক্ষে গভীর শোক জানান। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

একই ভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আইয়াজ সাদিক সে দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, ফিল্ড মার্শালের পক্ষে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর শোক জানান।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলছেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রী, কূটনীতিকদের আগমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সব দেশই তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

জনাব কবির বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বৈঠক, ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সম্ভাব্য কারা ভবিষ্যতে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারে তাদের সঙ্গে দেশগুলো যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সেটিও ইতিবাচক।

এদিকে আলোচনায় আছে ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠকটিও। পুরো বিষয়গুলো এমনও ইঙ্গিত করছে যে বাংলাদেশে আগামীতে যে দলই সরকার গঠন করুক ভারত ও পাকিস্তান তাদের সঙ্গে আছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে তা অদূর ভবিষ্যতে নতুনভাবে তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক প্রতিবেশী দেশ হিসাবে ভারত, মিয়ানমার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে দেশের পরবর্তী সরকার কোন দেশের সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক নির্মাণ করবে তা বিশ্বের শক্তিধর নানা দেশ পর্যবেক্ষণ করছে।