― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

এবার সারা দেশে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে চরম দুর্ভোগে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘড়ির কাটায় সময় তখন সকাল ১০টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের নমুনা সংগ্রহের কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায় কয়েকজন রোগীকে। তাদের মধ্যে একজন হালিমা বেগম (ছদ্দ নাম) তিনি রক্ত পরীক্ষা করতে এসেছেন। গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) কথা হয় তাঁর সাথে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর জন্য এসেছি। শুনলাম আন্দোলন চলছে, ১২টার পর ছাড়া নমুনা দেওয়া যাবে না। জানি না কতক্ষণ বসে থাকতে হবে। আমি অসুস্থ্য, বসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য সেবায় এই ভোগান্তীর কারণ, এবার আন্দোলনে নেমেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই একই পরিস্থিতি। ছয় দাবিতে গত পাঁচ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করে এখন ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের এই কর্মবিরতির ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন সারা দেশের রোগী ও তাদের স্বজনরা।

মূলত দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) তাদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া চার দাবিতে গত ২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। তারাও দশম গ্রেড চায়।

এদিকে নাসিং খাতেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। তারা আট দাবিতে আন্দোলন করছেন। এসব আন্দোলনে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই রোগী ও তাদের স্বজনদের। সব মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে। এ খাতে দেখা দিয়েছে বিপদের শঙ্কা।

শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাকেন্দ্রে সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মা ও শিশুরা।

দশম গ্রেডের দাবিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গতকাল সারা দেশে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মরিবতি পালন করেছেন। গত ৩০ নভেম্বর তারা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়ব না।’

ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এ সময় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগে কখনো কর্মবিরতিতে যাইনি। এবার বাধ্য হয়েছি। আমাদের উপায় নেই। রোগী-স্বজনদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ‘হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ হবে এটাই স্বাভাবিক। এভাবে দিনের পর দিন আন্দোলন হতে থাকলে তো স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয় নেমে আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পে-স্কেল গঠন করা হয়েছে। সেটি নিয়ে কাজ চলছে। সেখানে তারা দাবি উপস্থাপন করতে পারে। বেতন কমিশনের মেম্বার যারা আছেন তাদের কাছে দাবি তুলতে পারে। কিন্তু রাস্তায় নেমে আন্দোলন করায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি হচ্ছে।’

আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেশে এখন ২৬ হাজারের অধিক স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছে। তাদের মাসিক ভ্রমণভাতা মাত্র ৬০০ টাকা। আর বেতন সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার ৭০০ টাকা। যা দিয়ে বর্তমান বাজারে চলা তাদের জন্য কষ্টকর।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ইপিআই) ডা. হাসানুল মাহমুদ বলেন, ‘কেউ যাতে টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কর্মবিরতির কারণে সেবা নিতে আসা রোগীরা সাময়িকভাবে দুর্ভোগে পড়ছেন। স্বাস্থ্য সহকারীরা শুধু টিকা দেন না, তারা আরও অনেক কাজ করেন। সেগুলো বন্ধ রয়েছে।’