স্বাস্থ্য ডেস্ক
আমাদের হার্ট বা হৃদযন্ত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে পুরো দেহে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। অর্থাৎ হৃদযন্ত্র আমাদের দেহের ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। কিন্তু এই ইঞ্জিনের রাস্তায় যখন বাধা সৃষ্টি হয়, তখনই বিপদ দেখা দেয়। যাকে আমরা বলি হার্ট ব্লকেজ।
হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমে ধীরে ধীরে ব্লক তৈরি হয় বা স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা সৃষ্টি করে। সমস্যা বাড়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত পাঠাতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো যেতে পারে।
সিঁড়ি ওঠার ঘরোয়া পরীক্ষা হার্টের ফিটনেস বোঝার অন্যতম সহজ পদ্ধতি। চারতলা বা প্রায় ৬০ ধাপ সিঁড়ি একটানা উঠে দেখা যেতে পারে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। যদি ৯০ সেকেন্ডে সিঁড়ি উঠে যেতে পারেন, শ্বাসকষ্ট না হয়, বুকে চাপ বা মাথা ঘোরা না আসে তাহলে বুঝতে হবে হৃদযন্ত্র ভালো কাজ করছে।
কিন্তু যদি সিঁড়ি ওঠার সময় বুকে টান ধরে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, পা ভারী লাগে বা মাথা ঝিমঝিম করে—তাহলে রক্তনালিতে ব্লকেজের ইঙ্গিত মিলতে পারে। এ রকম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।
এ ছাড়াও নানা ঘরোয়া উপায়ে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। যেমন, রক্তচাপের নিয়মিত পরীক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত দেয়। প্রতিদিন রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করলে বড় কিছু হওয়ার আগেই তার প্রতিকার করা যায়।
রক্তচাপের নিয়মিত পরীক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত দেয়। প্রতিদিন রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করলে বড় কিছু হওয়ার আগেই তার প্রতিকার করা যায়। নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ ধমনির শক্ত হয়ে যাওয়া বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ হতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
হৃদ্স্পন্দনের ছন্দে নজর রেখেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় । অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, খুব দ্রুত অথবা খুব ধীর স্পন্দন—সবই হতে পারে ধমনীতে পরিবর্তন বা হার্টে চাপ বেড়ে যাওয়ার আগাম সতর্কতা।
এ ছাড়া সাধারণ লক্ষণগুলোর প্রতিও সতর্কভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যেমন, বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, হাঁটতে বা সিঁড়ি উঠতে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি হতে পারে ব্লকেজের প্রাথমিক লক্ষণ।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া উচিত। যেমন, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, চর্বি ও লবণ কমানো।
এ ছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনাকে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।



