নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১টি করে হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশের হিসাবে এক দশকের মধ্যে দৈনিক সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডে মামলা দায়ের হয়েছে চলতি বছর।
২০১৬ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টি করে হত্যা মামলা নথিভুক্ত হতো। ২০২১ সালে এ সংখ্যা নেমে আসে নয়টিতে। এমনকি অভ্যুত্থানের বছর ২০২৪ সালেও গড়ে সারা দেশে প্রতিদিন নয়টি করে হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যা চলতি বছরে বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, বিগত সময়ে কিছু হত্যা মামলা এ বছর নথিভুক্ত হয়েছে। এটি মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বড় একটি কারণ।
২০২৪ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ৪৩২টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ১৫৮টি মামলা পূর্ববর্তী সময়ের। গণ-অভ্যুত্থানের ওই বছর গড়ে প্রতিদিন প্রায় নয়টি করে খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে ৮০৩টি। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি এলাকা।
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোড় প্রস্তুতি চলছে। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাপ্তরিক কাজে ফিরলেও অপরাধ দমন কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন প্রক্রিয়ায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং চলমান আইনি কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। ফলে অপরাধ বেড়েই চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিচার নিশ্চিত না করা গেলে এ রকম হবে। এর সঙ্গে আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাস্তব প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভূমিকা পালনের ঘাটতি ও অপরাধীর রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ও।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘বিগত বছরগুলোয় অনেকেই হত্যার শিকার হলেও তাদের পরিবার মামলা করতে পারেননি। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এমন মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে চলতি বছর হত্যা মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বিকভাবে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো বেশি উন্নতি দৃশ্যমান হবে।’
সূত্র : বণিক বার্তা।



