― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মেট্রোর পিলারে আঁকা নিষ্ঠুর অতীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারগুলো যেন বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের নিষ্ঠুরতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। এখানের প্রতিটি পিলারে রয়েছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ফ্যাসিস্ট সরকারের গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের চিত্র। তাতে স্পষ্ট হয়েছে দেশের জনগণকে একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের দিকে কিভাবে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তার গল্প।

‘ফিরে দেখা ফ্যাসিস্ট রেজিম’ নামের এই ছবিগুলোতে গত ১৬ বছরের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। একে একে পিলারে ফুটে উঠেছে নিমতলী অগ্নিকাণ্ড, খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, ফেলানী হত্যাকাণ্ড, শেয়ারবাজারে ধস, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, বিশ্বজিৎ দাস হত্যা প্রভৃতি।

বর্ণিল এসব চিত্রকর্ম নগরের সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে। কারণ শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলির সব দেয়াল যেখানে নানা পোস্টারে কদর্য, সেখানে এই গ্রাফিতিগুলো নগরবাসীর চোখে ও মনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে। এগুলো এঁকেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা।

দেয়ালে এমন চিত্রশিল্পের মাধ্যমে জঘন্য অতীতকে তুলে ধরার বিষয়টি অভিনব লেগেছে নগরবাসী-পথচারীদের কাছেও। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি কারওয়ান বাজারের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে চা খাচ্ছিলেন। গ্রাফিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইডিয়াটা ভালো। হাঁটতে হাঁটতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলনামা দেখা যায়।’

জানা যায়, মেট্রোরেলের পিলারে গ্রাফিতি আঁকার ধারণাটি ছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার। এটি বাস্তবায়ন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গত আগস্টে উদ্বোধন করা হয় এই আয়োজনের।

তখন উপদেষ্টা বলছিলেন, ‘এই গ্রাফিতিগুলো আওয়ামী স্বৈরশাসনের ভয়াল দিনগুলো এবং জনগণের সাহসী প্রতিরোধের ইতিহাস বারবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে এ দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে এসব গ্রাফিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘শিল্পকলা প্রতিবাদের একটি মাধ্যম হিসেবে এই অভ্যুত্থানে উপস্থাপিত হয়েছে, এটি নতুন একটি দিক। ছেলে-মেয়েরা গ্রাফিতি এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এখনো গ্রাফিতি আঁকা চলছে। শিল্পীর মনেও প্রতিবাদ থাকে, শিল্পের মাধ্যমে তিনি তা ফুটিয়ে তোলেন।’