নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরের জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং দেশের শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
এই জব্দকৃত ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ রয়েছে ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। দেশে জব্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।
এছাড়া এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ১৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪৩ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকার।
যেই ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তারা হলো এস আলম, আরামিট, নাবিল গ্রুপ, বেক্সিমকো, নাসা, সিকদার, বসুন্ধরা, সামিট, ওরিয়ন ও জেমকন গ্রুপ।
জানা যায়, শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপের অর্থপাচার ও জালিয়াতি তদন্তে ১১টি যৌথ সরকারি তদন্ত দল গঠন করা হয়। এই তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদেরই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটি এ পর্যন্ত তদন্তসংশ্লিষ্ট এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৫৭৩টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা ও ৩০ লাখ ডলার জব্দ করেছে। আর ১৮৮টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) হিসাবের বিপরীতে জব্দ করা হয় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বিএফআইইউ নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য অর্থ জব্দ করতে পারে। যে কারণে পরে তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের মাধ্যমে আবার এসব অর্থ ও শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়। এর বাইরে আরও অনেক অর্থ জব্দ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ পাচার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সময়জুড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘অর্থ উদ্ধারে সময় লাগবে। তবে আমরা পাচারকারীদের ঘুম নষ্ট করতে পারছি বলে মনে করি। দেশের অর্থ আত্মসাৎকারীদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। ’



