মেহেদী হাসান জসীম:
উচ্চমাত্রার আসক্তি তৈরি করা এক রাসায়নিক পদার্থের নাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এটি ব্যবহারে মানসিক বিকারগ্রস্থতা থেকে শুরু করে অতি দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। সারা পৃথিবীতে অনেক মানুষ আইস ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংস করে দিয়েছে। অথচ এই ভয়ংকর মাদক নিরবে ছড়িয়ে পড়ছে দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দেশের দক্ষিণের জনপদ কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা থেকে এই আইস উদ্ধার করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকের জগতে অনেকটাই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ভয়ংকর রাসায়নিক মাদক “আইস”। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ক্রিস্টাল ম্যাথ বা ‘আইস’। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে তৈরি হচ্ছে এ মাদকের ব্যপক চাহিদা।

অনুসন্ধান বলছে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং সাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত জেলেদের ব্যবহার করা হচ্ছে এ মাদক পাচারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোটি কোটি টাকা মূল্যের আইস উদ্ধার করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সে তুলনায় গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকে এই মাদক উদ্ধার তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। আর এই সুজোগ কাজে লাগিয়ে নিরবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভয়ংকর এই মাদকটি।
জানা যায়, গত দুই-তিন বছর আগেও টেকনাফে প্রতি কেজি আইসের দাম ছিল আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। তবে বর্তমানে চাহিদা বেড়ে যাওয়া দামও বেড়েছে অনেকগুন। সীমান্তে দাম কম হলেও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে প্রতি কেজির মূল্য প্রায় কোটি টাকা। মিয়ানমারের ইয়াবা কারবারিদের সহায়তায় দেশের ইয়াবা পাচারকারীরা সারা দেশে আইস ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যে উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, ইয়াবার মতো একই পদ্ধতি ও পথ ব্যবহার করে দেশে আনা হচ্ছে আইস। এতে মেথামফিটামিনের পরিমাণ বেশি থাকায় আইস মাদক হিসাবে ইয়াবার চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী নেশা সৃষ্টিকারী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল নগরের একজন মাদকসেবী জানান, আইসের দাম বেশি তাই ধনীদের সন্তানেরা এটা বেশি কেনে। দামের কারণে এখন পর্যন্ত সব শ্রেণির মাদকসেবীদের কাছে এটা পৌঁছায়নি। তবে, টাকা থাকলে যে কেউ চাইলেই এটা খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারে।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আইস উদ্ধার ও চারজনকে গ্রেপ্তার প্রসংঙ্গে পটুয়াখালী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হামিমুর রশিদ জানান, পটুয়াখালীতে এই প্রথম এ ধরনের ভয়ংকর মাদকসহ জড়িতদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। সম্প্রতি পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় নৌপথে মাদকের ছড়াছড়ি চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। অভিযানে আমরা তাদেরকে আঁটক করতে সক্ষম হই। তাদেরকে আটকের পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারো গোপন আস্তানা কারো বাড়ি থেকে এই ভয়ঙ্কর আইস উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আমরা যাদেরকে আটক করেছি তারা মুলত প্রধান চক্রকারীদের সহযোগী, আমাদের এই অভিযানের উদ্দেশ্যে মূল হোতা পর্যন্ত পৌঁছানো। ভয়ঙ্কর এই মাদক প্রথমবারের মতো পাওয়ায় এই এলাকাকে মাদকের অন্যতম ঝুকিপূর্ণ স্থান হিসাবে বিবেচিত করে সামাজিকভাবে প্রত্যেক সচেতন মানুষকে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করছি।



