ডেস্ক রিপোর্ট:
আজ ২১ মে, বিশ্ব চা দিবস। যারা চা খেতে ভালবাসেন, দিনটি মূলত তাদের জন্য। অনেক চা প্রেমি মানুষ আজ দিনটি উদযাপন করবেন আর মেতে উঠবে চায়ের আড্ডায়।
চা একটি উপকারি পানীয়। তবে আপনাকে জানতে হবে চা কিভাবে খেলে উপকার আর কিভাবে খেলে ক্ষতি হতে পারে।
প্রথমেই চা নিয়ে আপনাদের মজার কিছু তথ্য জানিয়ে রাখি, বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে মানুষ ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন। অর্থাৎ দিনে দুই বিলিয়ন কাপেরও বেশি চা পান করা হয়। ২০০৫ সালে প্রথম চা উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মিলে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন শুরু করে। চা মূলত চীন দেশ থেকে এসেছে। গরম চায়ের আছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস। প্রায় ৫ হাজার বছর আগের। তখন থেকেই চা নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে- একজন চীনা সম্রাট গরম পানির কাপ নিয়ে আনমনে বসে ছিলেন একটি গাছের নীচে। তখন কিছু শুকনো পাতা ওই কাপে এসে পড়ে। তখন সম্রাট সেই পানীয় পান করে মুগ্ধ ও চাঙ্গা হন। এভাবে গরম চায়ের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যদিও এই গল্প কতটা সত্যি তা বলা মুশকিল। তবে, এটাতো সত্যি যে- হাজার বছর ধরে মানুষ গরম চা পান করে আসছেন।
চায়ে আছে ক্যাফেইন। যা পান করার সাথে সাথে মানুষ কিছুটা সতেজতা বা চাঙা ভাব অনুভব করে। তবে চায়ে যেমন উপকারিতা আছে, ঠিক তেমনই চায়ের অপকারিতাও আছে। এই উপকারিতা ও অপকারিতা আপনার চা প্রস্তুতের উপর নির্ভর করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যে খাবার আপনার মুখে যত বেশি স্বাদ বাড়াবে, সেই খাবার আপনার তত বেশি শারীরিক ক্ষতির কারণ হবে। চা উপকারি, তবে তার সাথে যখন দুধ, চিনি ও স্বাদ বর্ধক অন্যান্য উপকরণ যুক্ত হয়, তখনই স্বাস্থের জন্য তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়্।
এবার আসি চায়ের উ্পকারিতায়। প্রতিটি বাঙালি রান্নাঘরে থাকে নানান মসলা। এর মধ্যে অনেক মসলা চায়ের সাথে খেলে উপকার পাওয়া যায়। যেমন পরিচিত একটি মসলা লবঙ্গ। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতে নয়, বহু দিন ধরেই এটি ব্যবহার হচ্ছে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে। ঠাণ্ডা, কাশি বা গলা ব্যথা হলে মুখে একটি লবঙ্গ রেখে তা চিবিয়ে অনেকেই আরাম পান। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও এটি দারুণ কার্যকর। তবে জানেন কি, লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার চেয়ে তা দিয়ে চা তৈরি করে খেলে শরীরের উপকারিতা আরও বেড়ে যায়? চলুন, জেনে নিই।

কিভাবে বানাবেন লবঙ্গ চা?
পানি একটি পাত্রে নিয়ে গরম করুন। পানি ফুটে উঠলে তাতে দিন এক চা চামচ লবঙ্গ। এবার ১৫ মিনিট ধরে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর আগুন নিভিয়ে আরও ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। পানি ছেঁকে নিয়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
লবঙ্গ চায়ের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা
১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।
২। হজমের সহায়ক:
লবঙ্গ চা খেলে হজমে সহায়ক এনজাইম নিঃসরণে সহায়তা করে। এতে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও বদহজমের সমস্যা কমে যায়।
৩। দাঁতের ব্যথা উপশমে কার্যকর:
লবঙ্গের অন্যতম উপাদান ইউজেনল, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। দাঁত বা মাড়ির ব্যথা কমাতে এটি উপকারী। মুখের জীবাণুও নাশ করতে সক্ষম।
৪। ফুসফুসের যত্নে:
লবঙ্গ চা শরীরে জমে থাকা কফ তরল করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে ফুসফুসের সংক্রমণ কমে, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে।
৫। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
লবঙ্গ চা বিপাকের হার বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ক্যালরি খরচ বাড়ে ও ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।
৬। ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনাময়:
লবঙ্গের প্রদাহনাশক উপাদান কোষে ক্যানসারের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বাতের ব্যথাও কমাতে সহায়ক।
৭। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে:
লবঙ্গ চা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। আদা মিশিয়ে খেলে এর প্রভাব আরও বাড়ে।
প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের যত্ন নিতে চাইলে লবঙ্গ চা হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ ও উপকারি এক সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি। তবে কারও যদি কোনও এলার্জি বা বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। নিয়মিত চায়ের রুটিনে লবঙ্গ ব্যবহার আপনাকে দিতে পারে ভিতর থেকে সুস্থ থাকার ভরসা।



