ডেস্ক রিপোর্টঃ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে। এ বছর মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারের পরীক্ষায়ই সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন এবং ২০২৩ সালে ছিল ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন। অথচ ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী। ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক জানান, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া এখনো থামেনি। একসময় উপবৃত্তি চালু থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও এখন উপবৃত্তির অপ্রতুলতা ও করোনার পর সাধারণ ধারার পড়াশোনা ছেড়ে অনেক শিক্ষার্থীর মাদ্রাসা, বিশেষ করে কওমি ধারায় ঝুঁকে যাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সর্বমোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ১৬টি এবং প্রতিষ্ঠানসংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার।
এদিকে, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের চারপাশে লাল পতাকা দিয়ে সীমারেখা নির্ধারণ করা হবে। প্রশ্নফাঁস ও গুজব ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
বিএম/সজীব



