― Advertisement ―

এবার ঢামেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

বরিশাল মেইল ডেস্কঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কাউন্সিলে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ তদন্ত...

ঐতিহ্য সংরক্ষণে এমব্রয়ডারি শিল্পের পুনর্জাগরণ

ডেস্ক রিপোর্ট: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রদেশ গুইঝৌ একটি দরিদ্রপীড়িত জনপদ। এই প্রদেশের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের ভাঁজে, বাঁশ বাগান থেকে প্রতিনিয়ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্যের চিরায়ত গল্প।

এই ঐতিহ্যের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখানকার মানুষের মিয়াও এমব্রয়ডারি। যা কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসেছিল। এখন সেই ঐতিহ্য আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে স্থানীয় কারুশিল্পীদের সূচের ফোঁড়ে। মিয়াও এমব্রয়ডারির জগৎ আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে । দারিদ্র্য নির্মূল ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে এমব্রয়ডারির শিল্পের পুনর্জাগরণ আশা জাগাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

ছবি: সংগৃহীত

গুইঝৌ দীর্ঘদিন ধরে চীনের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল ছিল। যেখানে ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। তবে চীনের দারিদ্র্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গুইঝৌ একটি রূপান্তরকামী যাত্রা শুরু করেছিল, যেখানে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ভাবনী উপায়ে ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এর ফলে ২০২০ সালের মধ্যে অঞ্চলটি দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে ওঠে।

গুইঝৌর কিয়ানশি শহরের জিনরেন মিয়াও টাউনশিপের হুয়াও গ্রামের জন্য, মিয়াও এমব্রয়ডারি ছিল এক জাদুকরী অস্ত্র যা তাঁদের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি এনে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে শিল্পখাতে রূপান্তর

২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। চীনরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই হুয়াও গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং মিয়াও এমব্রয়ডারির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিরোধী আন্দোলন ও গ্রামীণ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “জাতিগত সংস্কৃতির ঐশ্বর্য কেবল নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর গর্ব নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যও গর্বের বিষয়। মিয়াও এমব্রয়ডারি শুধু ঐতিহ্য নয়, এটি ফ্যাশনও বটে। এটি শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণই নয়, বরং গ্রামীণ উন্নয়নেরও চালিকাশক্তি হতে পারে।”

শি জিনপিং-এর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, হুয়াও গ্রাম মিয়াও এমব্রয়ডারিকে গ্রামীণ শিল্প উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে এবং চীনের অন্যতম সুন্দর পর্যটন গ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে।

স্থানান্তরিতরা ফিরছে নিজ শহরে: তাঁদের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

হুয়াও গ্রামের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী ইয়াং ওয়েনলি আজও মনে করেন, কীভাবে শি জিনপিং তাঁদের গ্রামের এমব্রয়ডারি কর্মশালার পরিদর্শন করেছিলেন।

ইয়াং ওয়েনলি বলেন, “আমি তখন প্রচণ্ড অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। আমি চাই, ভবিষ্যতে আরও বেশি এমব্রয়ডারি শিল্পী গড়ে তুলতে পারি এবং আমাদের মিয়াও এমব্রয়ডারি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্থান পাক,” গ্লোবাল টাইমসকে জানান ইয়াং।

ছোটবেলা থেকেই এমব্রয়ডারির প্রতি তাঁর আগ্রহ থাকলেও, তিনি কখনো ভাবেননি এটি তাঁদের গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলাবে। উচ্চবিদ্যালয়ের পর পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি মেশিনের মাধ্যমে এমব্রয়ডারি শেখেন এবং এটিকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে, তাঁর স্বামীকে নিয়ে তাঁরা একটি পুরাতন এমব্রয়ডারি মেশিন কিনে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০১৯ সালে স্থানীয় সরকারের সহায়তায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে গড়ার সুযোগ পান।

বর্তমানে, ইয়াংয়ের প্রতিষ্ঠানে ২২ জন স্থানীয় বাসিন্দা কাজ করছেন, যেখানে সর্বোচ্চ মাসিক বেতন ৮হাজার ইউয়ান ( এক হাজার ১০৩ মার্কিন ডলার)।

ঐতিহ্যকে ফ্যাশনের সঙ্গে সংযুক্তি

হুয়াও গ্রামের আরেকজন শিল্পী পেং ই দীর্ঘদিন ধরে মিয়াও এমব্রয়ডারি ও বাটিকের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৫ সালে তিনি গুইঝৌ মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিগত ও লোকশিল্প বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর নিজ গ্রামে ফিরে এসে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি এমব্রয়ডারি ও বাটিকের নতুন ডিজাইন তৈরির উপর গুরুত্ব দেন।

পেং ই বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, মিয়াও এমব্রয়ডারি এবং ব্যাটিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন ধারায় এগিয়ে যাবে”।
বর্তমানে, তার স্টুডিও ১০০টিরও বেশি নতুন ডিজাইন তৈরি করেছেন, যে পোশাক, অফিস সরঞ্জাম এবং গৃহসজ্জার মতো সামগ্রী।

চীনের শানডং প্রদেশের লু ইয়াং মিয়াও এমব্রয়ডারির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। ২০০৯ সালে তিনি কিয়ানশিতে স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর এই ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে। পরে তিনি সাংহাইয়ে কর্মরত থাকলেও, মিয়াও এমব্রয়ডারি তাঁকে আকৃষ্ট করত। ২০২১ সালে তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে গ্রামে ফিরে আসেন এবং এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন।

তাঁরা দেখেন, শিল্পায়নের কারণে এই ঐতিহ্য বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তাই লু ইয়াং স্থানীয় প্রবীণ এমব্রয়ডারি শিল্পীদের নতুন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং শহরের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাঁদের কাজ উপস্থাপন করেন।

২০২৩ সালে, তাঁদের ডিজাইন করা “মিয়াও রিদম: ফ্লেম অফ ইনহেরিটেন্স” নামের একটি বাটিক ও এমব্রয়ডারি কাজ হাংঝো এশিয়ান গেমস মিউজিয়ামে স্থান পায়। বর্তমানে, তাঁদের কাজ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ভারতের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

লু ইয়াং বলেন, “আমার মেয়েও এই ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সে একজন ডিজাইনার হতে চায় এবং আমি চাই সে এই ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সাথে মিলিয়ে আরও বিস্তৃত করবে।”

দ্য গ্লোবাল টাইমস অবলম্বনে-বিশেষ প্রতিনিধি