― Advertisement ―

চীনের বন্দরে আটকে আড়াই কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

ডেস্ক রিপোর্টঃ ইরান নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের বন্দরে ছয় বছর ধরে আটকে থাকা আড়াই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে নতুন সংকটে পড়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে চীনের পূর্বাঞ্চলের ডালিয়ান ও ঝুশান বন্দরে মজুদ এই তেল বর্তমানে ইরানের জন্য আর্থিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, চীনে মজুদ থাকা এই তেলের বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং বিশেষ ছাড় প্রত্যাহারের কারণে ইরান এই তেল খালাস বা বিক্রি করতে পারছে না।

ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি (এনআইওসি) চীনের ট্যাংকারগুলো ভাড়া নিয়ে তেল সংরক্ষণ করেছিল। তবে ভাড়ার বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ডালিয়ানের পিডিএ এনার্জি ও ঝুশানের সিজিপিসি তেলের জন্য ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ভাড়া দাবি করেছে।

চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা একপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয় না। তবে চীনা কাস্টমস এই তেল খালাসের অনুমতি দেয়নি, যা ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যদি আবার ক্ষমতায় আসেন, তাহলে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হবে। অন্যদিকে, ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের মতো কিছু দেশকে কম দামে তেল সরবরাহ করে যাচ্ছে।

ইরান যদি এই তেল ফেরত পেতে চায়, তাহলে ট্যাংক থেকে তেল বের করে জাহাজে তুলে নতুন কাগজপত্র তৈরি করতে হবে, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে আরও জটিল।

চীনের বন্দরে আটকে থাকা এই তেল ইরানের জন্য শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএম/সজীব