ডেস্ক রিপোর্ট: জীবন বাঁচাতে রক্তদানের মতো মানবিক কাজ অনেকেই করে থাকেন। রক্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানের অভাবে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। কেউ কেউ নিয়মিত রক্তদান করেন, আবার কেউ মাঝে মধ্যে রক্ত দিয়ে থাকেন। এরইমধ্যে আবার অনেকে ইচ্ছা থাকার পরও রক্ত দেন না।
এদিকে যারা রক্তদান করেন এবং যারা করেন না, তাদের সবার মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যায়। তা হলো নিয়মিত রক্তদান করলে কি আয়রনের অভাবজনিত অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা হয়? এ নিয়ে নানা জনের প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হেলথলাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্তশূন্যতা হচ্ছে লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকা। আর নিয়মিত রক্তদানকারীদের আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ রক্তদান করেন। নিয়মিত দাতাদের প্রায় ৩৫ শতাংশ আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়।
রক্তদান কীভাবে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি করে: ন্যাশনাল হার্ট, লাং এবং ব্লাড ইনস্টিটিউট (NHLBI) জানিয়েছে, আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রক্তের ক্ষতি। কেউ যখন রক্তদান করেন, তখন তিনি কার্যকরভাবে রক্ত হারিয়ে ফেলেন।
রক্তে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আয়রন। কেননা, হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকার একটি প্রোটিন, যা ফুসফুস থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ও টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করতে সহায়তা করে।
রক্তশূন্যতা থাকলে কি রক্তদান করা সম্ভব: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রক্তদানের আগে আপনাকে অবশ্যই ন্যূনতম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পূরণ করতে হবে। যা হচ্ছে পুরুষের ক্ষেত্রে ১৩ গ্রাম বা ডিএল এবং নারীর ১২ দশমিক ৫ গ্রাম বা ডিএল। রক্তে যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এই সংখ্যার কম থাকে, তাহলে চিকিৎসকরা রক্তশূন্যতা নির্ণয় করেন। অর্থাৎ, রক্তশূন্যতা থাকলে আপনি রক্ত দিতে পারবেন না।
রক্তদান থেকে রক্তশূন্যতা হলে করণীয়: রক্তশূন্যতার জন্য এর ধরন ও তীব্রতার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তদানের কারণে আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে বলেন। সঙ্গে আরও কিছু আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন―মাছ, মাংস, কলিজা, টার্কি, গাঢ় সবুজযুক্ত শাক-সবজি ও শস্য খেতে পারেন।
আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পুনরুদ্ধার না হলে রক্তদান না করা ভালো। রক্তক্ষরণ হচ্ছে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার প্রধান কারণ। এ জন্য রক্তক্ষরণ বা এ ধরনের ঝুঁকি কমানো প্রয়োজন। এছাড়া রক্তশূন্যতার গুরুতর জটিলতায় অন্যান্য কিছু চিকিৎসা যুক্ত হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যায় শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত ।



