বরিশাল মেইল ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার মিছিলে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার এ রিমান্ড আদেশ দেন।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী নেতা হলেও তার প্রভাব-প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি ছিল ঝালকাঠি জেলায়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে, যারা আমুর হয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ-বাণিজ্য, কমিটি গঠন এবং নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রির মাধ্যমে ক্ষমতা বিস্তার করে। এভাবেই আমু ঝালকাঠির “গডফাদার” হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ঝালকাঠিতে আমুর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ওই বাড়ি থেকে পোড়া ও অক্ষত মিলে প্রায় চার কোটি টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে। এর আগেই আমু পালিয়ে যান এবং তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছু জানত না।
পরবর্তী সময়ে, গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আমুর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থগিত করা হয়।
১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি ঝালকাঠিতে জন্মগ্রহণ করা আমির হোসেন আমু ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৩ সালে ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন এবং ২০১৪ সালে শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।



