এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সাক্ষী হচ্ছে বাংলাদেশ। পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণভোটে জনগণের যে ‘হ্যাঁ’ রায় এসেছে, তা বাস্তবায়নে নতুন করে শপথের কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া এবং এটিই ‘জুলাই সনদের’ মূল চেতনা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
মন্ত্রী বলেন, সংসদ নির্বাচন এবং সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর গণভোটের রায় একটি স্বাভাবিক আইনি পথ তৈরি করেছে। জনগণের ম্যান্ডেট যেহেতু ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে, তাই সংসদে এই বিলটি তোলা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। যেখানে দ্বিমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেখানে আইনবিশারদদের পরামর্শ অনুযায়ী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের পর দেশ গঠনের এই সন্ধিক্ষণে আইন ও যুক্তির মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারিত হওয়া উচিত, যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।
দেশের অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “মব মানেই বিশৃঙ্খলা, যা একটি দেশ গড়ার পথে প্রধান অন্তরায়।” বর্তমানে যারা বিভিন্ন ইস্যুতে মব করার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরকে এই পথ পরিহার করে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, দেশের শান্তি বজায় রাখা এবং সরকারকে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাজের দায়ভার বহন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে দেশ গড়ার কাজে মনযোগী হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সব বিষয়ে বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শহীদদের রক্তে ভেজা এই দেশটাকে এগিয়ে নিতে হলে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। লক্ষ্মীপুরের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে



