― Advertisement ―

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ভাবাচ্ছে ভারতকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরব ও পাকিস্তান সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি নিয়ে নানান হিসাব-নিকাশ কষতে হচ্ছে ভারতকে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ চুক্তির পর বলেছেন, “আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক একটি ঐতিহাসিক মোড় নিচ্ছে, আমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি এক টেলিভিশন স্বাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের পারমাণবিক ক্ষমতার সুবিধাও পাওয়া যাবে।

আর খাজার এই বক্তব্যই ভাবাচ্ছে ভারতকে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান উভয়ই সুন্নি-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং তাদের মধ্যে শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুই দেশের মধ্যে কারো ওপর হামলা হলে অন্য দেশও সেটিকে নিজের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

পাশাপাশি উভয় দেশের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী এখন আরও বেশি একে অপরকে সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করবে।

সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের হামলার পর সৌদি আরব নিজের নিরাপত্তায় আরো বেশি মনোযোগ দিয়েছে। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্র-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তান নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সৌদি আরব অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও সামরিকভাবে দুর্বল। অন্যদিকে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের অর্থনীতি নাজুক। তাই এই দুই দেশের একে অপরের জন্য কাজ করার অনেক সুজোগ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এর আগেও অর্থনৈতিক সংকটের সময় পাকিস্তানকে বহুবার সাহায্য করেছে সৌদি আরব এবং বিনিময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবকে নিরাপত্তা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় পর্যটকদের প্রাণহানির পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত দেখা দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এখন থেকে ভারতকে ভাবতে হবে যে, সৌদি আরব প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করবে কি না।

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে সবসময়ই টানাপোড়েন ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত মধ্যপ্রাচ্যে তার সম্পর্ক জোরদার করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চুক্তির পর পাকিস্তানকে এ অঞ্চলে আরও শক্তিশালী অবস্থায় দেখা যেতে পারে।

চুক্তি ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে বলেন, অন্যান্য আরব দেশের যোগদানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি এবং দরজা বন্ধও করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুক্তাদির খান বলেন, “ইসরায়েলের আক্রমণের জবাব দিতে কাতার অক্ষম ছিল। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অনেক যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানকে একটি গুরুতর শক্তি হিসেবে দেখছে।”