― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সুপ্রিম কোর্টে তুমুল হট্টগোল: সভাপতি খোকনের মন্তব্যে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এজলাস ত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। সুপ্রিম কোর্টে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে বিকেল সোয়া দুইটায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মূল ঘটনা ব্যাখ্যা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানান, বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা এবং স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন প্রধান বিচারপতি। আদালতে কোনো প্রকার প্রতারণা বা তথ্য গোপন তিনি সহ্য করেন না। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের এক কাজী নিয়োগ মামলা কেন্দ্র করে, যেখানে তথ্য গোপন করে পাঁচটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল।

সকালে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমে ওই মামলার আদেশ প্রদান করা হয়। যেখানে একই তথ্য গোপন করে একাধিক রিট দায়ের করায় আপিল বিভাগ এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং মূল রিট আবেদনকারীকে আরও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই ১০ লাখ টাকা ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদেশের সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন না।

পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে অন্য একটি মামলার শুনানিকালে মাহবুব উদ্দিন খোকন এসে আগের জরিমানা আদেশের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি একজন আইনজীবীকে জরিমানা করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তখন প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, আদালতের সঙ্গে সরাসরি জালিয়াতি করা হয়েছে এবং ইতিপূর্বে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশও গোপন রাখা হয়েছে। ফলে এই আদেশে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্যমতে, প্রধান বিচারপতির এ কথার পর সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে বসেন। খোকন বলেন, “আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে।” প্রধান বিচারপতি শুরুতে বিষয়টি হালকাভাবে নিলেও খোকন একই মন্তব্যে অনড় থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রধান বিচারপতি তখন মন্তব্য করেন, এই ধরনের বক্তব্য সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। সুপ্রিম কোর্ট বারের শীর্ষ পদে থেকে বিচারপতির পদে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি আর এজলাস পরিচালনা করবেন না। এরপরই বেঞ্চের অন্য বিচারপতিদের নিয়ে তিনি এজলাস ত্যাগ করেন।