বরিশাল মেইল ডেস্ক:
সাকিব আল হাসানকে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দল ঘোষণা করেছিল বিসিবি। কিন্তু সেই ম্যাচ খেলার জন্য দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তাকে ফেরাতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করছেন তার ভক্তরা। ক্রমশ সেই মাত্রা বাড়ছে।
এর আগে সেখানে সাকিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। সেই সঙ্গে হয় দেয়াল লিখনও। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সাকিবকে যেন দেশের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলতে না দেয়া হয়, সে দাবি নিয়ে শেরেবাংলায় স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। সেই সঙ্গে দল থেকে তাকে বাদ দেয়ার কথাও জানান তারা।
ছাত্র আন্দোলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ ক্রিকেট খেলছিলেন সাকিব। ওই সময় দেশের অনেক ক্রিকেটার ‘সহিংসতা বন্ধ’ এবং ‘শান্তির সপক্ষে’ পোস্ট দিলেও তিনি নিরব ছিলেন। মূলত এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সাকিবের বিষয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সাকিব আমাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছিলেন। আমি বলেছি উপদেষ্টা আসিফের সঙ্গে কথা বলতে যেহেতু এটা আমার ব্যাপার না।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সাকিবের মতো ক্রিকেটার বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি। সাকিব বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু যখন আন্দোলন চলছে, মানুষ মরছে, ঘরে ঘরে কান্না, ক্ষোভ-কষ্ট সাকিব তখন পোস্ট দিল সে কোথাও এনজয় করছে এমন। এটা সম্ভব একটা মানুষের পক্ষে?
তিনি বলেন, এ ছাড়া যে সমস্ত জুয়া, বেটিং, উশৃঙ্খল আচরণ…। আমার মনে হয়ে এটার জন্য শেখ হাসিনার সরকার দায়ী। এমন একটি রাষ্ট্রযন্ত্র তৈরি করা হয়েছে, যে শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত থাকলে আপনি যা ইচ্ছা করতে পারেন, আপনার শাস্তি হবে না। এটা অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাকেও (সাকিব) করেছে। মায়া লাগে কিন্তু তার প্রতি মানুষ যে ক্ষোভ দেখায় সেটি একটুও অযৌক্তিক লাগে না।
টেস্ট খেলতে ১৭ অক্টোবর ঢাকায় আসার কথা ছিল সাকিবের। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই পর্যন্ত চলে আসলেও দেশে আরও আসা হয়নি তার। দেশে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে’ উল্লেখ করে সেখান থেকে আসবেন না বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। পরে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দেশে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া।



