নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সরকারি দপ্তরগুলো থেকে সেবা নিতে গিয়ে এখনো জনগণকে সেই ভোগান্তি ও দুর্নীতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।
ভোগবাদী মানসিকতাই দুর্নীতির জন্য দায়ী বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। দেশে বর্তমানে সরকারি দপ্তরের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন। এমনকি সরকারি হাসপাতালে আহত কোন মানুষ সেবা নিতে গেলেও ঘুষ দিতে হয়।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পার হলেও সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতি দমনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পাসপোর্ট অফিস, ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, থানা, হাসপাতাল, এমনকি বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এখনো অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ মানুষ যখন কোন বিপদে পড়ে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হন। সেখানে কাঙ্খিত সেবা পেতে তারা ভোগান্তির শিকার হন। সাধারণ মানুষ যখন অন্যায়, অপরাধ বা জুলুমের বিচার চাইলে আদালতে যান, সেখানেও তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শত ভোগান্তির পড়েও যখন বিচারালয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয় না, তখন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েন। জুলাই আন্দোলনের পর মানুষ যে আশায় বুখ বেঁধে ছিলেন তা অনেকাংশেই পুরণ হয়নি।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, “শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই দুর্নীতি বন্ধ হয় না, কারণ মানুষের অভ্যাস সহজে বদলায় না।”
তিনি আরও বলেছেন, “নিয়ম-কানুন অব্যাহতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং যারা সেবা খাতে দুর্নীতির জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। ফলে দুর্নীতিও বন্ধ করা যাচ্ছে না।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আসলে যারা নিয়ম-শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে আছেন, তাদের অনেকেই এই দুর্নীতির সহযোগী, সুবিধাভোগী কিংবা রক্ষাকর্তা।”



