বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও পেশাদার বিনিময় কর্মসূচিগুলোর সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে ঢাকায় এক বিশেষ অর্ধবার্ষিক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে রাশিয়ান হাউস। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ রাশিয়ান হাউস মিলনায়তনে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের প্রথম সচিব এবং রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়। ব্রিফিংয়ে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক ‘পিপল-টু-পিপল’ বা জনগণের সাথে জনগণের সংযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক চমৎকার চিত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখার সময় আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় রুশ সরকারের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি (Scholarship) নিয়ে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা রাশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করছেন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মেধা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে রুশ সরকার প্রতি বছরই স্কলারশিপের কোটা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করছে।
দুই দেশের শিক্ষাগত অংশীদারিত্বের এক পরিসংখ্যানগত খতিয়ান তুলে ধরে রাশিয়ান হাউসের পরিচালক জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ সরকারি বৃত্তির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালে যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৫টি, তা ধারাবাহিক বৈশ্বিক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমানে উন্নীত করা হয়েছে ২০০টিতে। খ্লেভনয় রাশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের অর্জিত সাফল্যসমূহ প্রদর্শন করেন এবং একে দুই দেশের প্রগতিশীল সম্পর্কের জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উচ্চশিক্ষা ছাড়াও গণমাধ্যমের উন্নয়নে রুশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় জানান, বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাশিয়ায় বিশেষ পেশাদার বিনিময় কর্মসূচি (Professional Exchange Programme) চালু রয়েছে। তিনি রুশ সরকারের ‘গ্লোবাল ইয়ুথ প্রোগ্রাম’ এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা বিশ্বখ্যাত ‘স্পুটনিক প্রোগ্রাম’ (Sputnik Programme)-এর বিস্তারিত সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি রাশিয়ার অনন্য ভৌগোলিক অঞ্চল ‘আর্কটিক রিজিয়ন’ বা সুমেরু অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে বলেন, রুশ সরকারের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের প্রতিভাবান যুবসমাজ ও গবেষকদের এই অনন্য বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলটি অন্বেষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার এক দারুণ সুযোগ রয়েছে।



