রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনে মহিষ চুরি করে মাংস ভাগ করার সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন চোর সিন্ডিকেটের এক সদস্য।
এ ঘটনায় বন বিভাগ বাদী হয়ে ১১ জনের নামে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চর আন্ডা গ্রাম এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ইসরাফিল শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ২০ কেজি বুনো মহিষের মাংস ও চামড়াসহ আটক করা হয়।
তিনি চর আন্ডা গ্রামের আলী আহম্মেদ শিকদারের ছেলে।
ইসরাফিলের প্রাথমিক জবানবন্দিতে চক্রের ১০ নাম বলেছে, তাদের নামেও মামলা রুজু হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত সোনার চর বিটে বন বিভাগের মালিকানাধীন বুনো মহিষ এর আগেও স্থানীয় কাইয়ুম শিকদারের ট্রলার যোগে এসে আসামীরা চুরি করার তথ্য রয়েছে।
এবারও একই কায়দায় ট্রলার যোগে ১১ জনের একটি চোরের সিন্ডিকেট বনে প্রবেশ করে একটি মহিষ ফাদে আটকে জবাই করে পার্শ্ববর্তী চর আন্ডায় আসামীদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে চুরি করা মহিষের মাংস ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে এমন সংবাদ পেলে পুলিশের সহায়তায় ১নং আসামী ইসরাফিল শিকদারকে ৪কেজি মাংস এবং চামড়া সহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন, কামাল শিকদার, আমজাদ মল্লিক, মোহাম্মদ খা, কাওসার খান, মামুন খান,মো. ইদ্রিস, বাদল প্যাদা, জাহেদ শিকদার ও বাবুল হাওলাদার। আসামীরা সবাই চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।
মামলার বাদী বিট কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, লোকবল সংকট ও চোরচক্রের প্রভাবশালী সদস্যদের কারণে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংরক্ষিত বনের বন্য প্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ এমারৎ হোসেন জানান, মহিষ চুরির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে, যিনি সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছেন।
বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
বিএম/জ/রা



