― Advertisement ―

যুদ্ধ নিয়ে বার্তা দিলেন হানিয়ার ছেলে, রাশিয়ার কঠোর শোকবার্তা, ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, দাফন হবে দোহায়

বরিশাল মেইল ডেস্কঃ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাঈল হানিয়া নিহত হয়েছেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে তিনি নিহত হন। হানিয়াকে হত্যার পর যুদ্ধ নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।

বুধবার (৩১ জুলাই) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হানিয়ার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া বলেন, তার পিতাকে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ শেষ করা যাবে না।

তিনি বলেন, আমার বাবা তার দেশপ্রেমিক যাত্রায় চারবার হত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। আজ আল্লাহ তার শাহাদাত কবুল করেছেন। তিনি এটি সর্বদা চেয়েছিলেন।

হানিয়ার ছেলে আরও বলেন, তিনি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং সব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। আমরা নিশ্চিত করছি যে এই হত্যার মাধ্যমে প্রতিরোধকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলতে থাকবে।

ছবি- রয়টার্স

ইসমাইল হানিয়ার এ হত্যার ঘটনায় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া।

বুধবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামাসের প্রধানকে হত্যার মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বুধবার হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহতের ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপগুলো পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

এর আগে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভ হানিয়াকে হত্যা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি হামাসপ্রধানের হত্যকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক হত্যা’ বলে অভিহিত করেন।

ছবি- রয়টার্স

তার দাফন কোথায় হবে তা জানিয়েছে হামাস। বুধবার (৩১ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তেহরানে জানাজার পর আগামীকাল ইসমাইল হানিয়ার মরদেহ দোহায় নেওয়া হবে। এরপর তাকে কাতারের রাজধানীতে কবরস্থ করা হবে।

এর আগে গোষ্ঠীটি জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধানের জানাজা সম্পন্ন হবে।

ছবি- রয়টার্স

তার হত্যায় ইরানে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরান জানিয়েছে, হামাসের পলিটব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহতের ঘটনায় দেশটিতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেনম, সন্ত্রাসী ও ইহুদীবাদী প্রশাসনকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। হামাস নেতার রক্তের বদলা নেওয়া ইরানের নিজেদের কর্তব্য মনে করে বলেও জানান তিনি।

এর আগে আলজাজিরা জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসমাইল হানিয়া গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হানিয়া মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) থেকে তেহরানে অবস্থান করছিলেন। হামাস নেতারা যে ভবনে অবস্থান করছিলেন সেখান থেকে বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে হানিয়া এবং তার একজন দেহরক্ষীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

বিষয়টি এক বিবৃতিতে হামাসও নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, আমাদের ভাই, নেতা, মুজাহিদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান ইসমাইল হানিয়াহর তেহরানের বাসভবনে বিশ্বাসঘাতক জায়নবাদীরা হামলা করেছে। তিনি শহীদ হয়েছেন। ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব ও ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের সব স্বাধীন মানুষের কাছে শোকের দাবি করে।

গাজা উপত্যকায় হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ইসমাইল হানিয়া। ২০০৪ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শেখ আহমেদ ইয়াসিন নিহত হন। এরপর উপত্যকায় ইসমাইল হানিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকে। এ নেতার সরাসরি রাজনীতিতে উত্থান ঘটে ২০০৬ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের আগে। তখন মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন বিভক্ত ফাতাহ দলকে হারিয়ে চমক দেখায় হামাস। ওই নির্বাচনে সাংগঠনিক পারদর্শিতায় কর্মীদের মন জয় করেন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে ইসমাইল হানিয়া ২০১৭ সাল থেকে হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার জনপ্রিয়তায় তিনি বারবার গোষ্ঠীটির নেতা নির্বাচিত হন।