― Advertisement ―

মহামারী পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ হুমকির রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসিবি) তাদের সাম্প্রতিক নিউজ বুলেটিনে (এপ্রিল-জুন ২০২৬ সংখ্যা) সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব করোনা মহামারীর পর এটিই সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংকট। সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খলকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এই যুদ্ধের ধাক্কা অত্যন্ত তীব্র। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ এখন হুমকির মুখে, যা দিয়ে বিশ্ব চাহিদার বড় অংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় লাফিয়ে বাড়ছে। এর ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের দেশেই নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে।

সংকট কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং সার্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) সতর্ক করেছে, ইরান যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল আর্থিক সম্পদ ব্যয় হচ্ছে। অথচ এই অর্থ দিয়ে বিশ্বজুড়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো।

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে দিতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, রাজস্ব বাজেট সংশোধন এবং সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একই সাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ এই সংকটের অন্যতম প্রত্যক্ষ শিকার। জ্বালানি, সার ও নিত্যপণ্য আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশের ওপর আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিরতার চাপ বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক খাতসহ রফতানিমুখী শিল্পে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে আইসিসিবি।

আইসিসি এবং অক্সফোর্ড ইকনোমিকসের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে বড় ধস নামিয়েছে। সংঘাত ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইসিসিবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই বাণিজ্যের প্রধানতম ভিত্তি হলো রাজনৈতিক শান্তি। যুদ্ধ প্রতিরোধ কেবল একটি কূটনৈতিক কৌশল নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষার প্রধান পূর্বশর্ত।