আবদুল্লাহ জুয়েল, মনপুরা (ভোলা):
ভোলার মনপুরায় পূর্ব-পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত তোলা হচ্ছে বালু। এলাকাবাসী বলছেন, অবৈধভাবে তোলা এসব বালু ব্যবহৃত হচ্ছে মেঘনা তীর সংরক্ষণ কাজে। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু তোলার কারণে নদী তীররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া আবাধি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এই ড্রেজার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। এখন তাদের সাথে আরেকটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা মিলেমিশে এখন এই বালু তোলার কাজ করছে।
দেশের সবচেয়ে বড় নদী মেঘনার মনপুরা অংশের চিত্র যখন এমন, তখন আজ শুক্রবার (১৪ মার্চ) পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস। ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলের কুরিতিয়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন করে আসছে দিবসটি।
এদিকে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি সত্যতা যাইয়ের জন্য সরেজমিনে গত ৩ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত কয়েক দফায় গিয়ে দেখা গেছে, মনপুরা অংশের মেঘনার ১০-১৫ টি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। কোথাও নদী তীরবর্তী আনুমানিক ১শ মিটারের কাছাকাছি, কোথাও ৩০০ মিটার আবার কোথাও আধা কিলোমিটার কাছ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এই সমস্ত বালু ড্রেজারে কেটে বাল্কহেডে করে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মেঘনার ভাংঙ্গন রক্ষা প্রকল্পের বেড়ীবাঁধে। এই সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্বে থাকা লোকজন বাঁধা দেন।
অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদৌলা জানান, গত বছর মেঘনা ১ কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলার অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়।

এদিকে মেঘনার তীরে এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বিষয়টি সর্ম্পকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো একত্রে উৎকোচ দিয়ে অবৈধভাবে মন্ত্রণালয় থেকে বালু তোলার বিষয়টি পাশ করিয়ে আনেন। এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলা হলে মেঘনা তীর রক্ষা প্রকল্পটিসহ দ্রুত ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে সরকারের টাকা গচ্ছা যাবে। দুর্ভোগে পড়বে স্থানীয়রা। তাই মেঘনা থেকে দ্রুত বালু তোলা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা ।
জানা যায়, মনপুরা উপজেলা মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস হয় একনেকে। সেই প্রকল্পটি ১৪ টি প্রজেক্টের মাধ্যমে টেন্ডার আহবান করা হয়। সেই টেন্ডারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, এনডি ৩টি, ওটিডিএল ১ টি, পিডিএল ২ টি, লিয়াকত আলী এন্ড সন্স ৩ টি, ওয়স্টোর্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ২টি ও গোলাম রাব্বানী কনস্ট্রকশন লিমিটেড ৩টি কাজ পায়। এরা স্থানীয় ঠিকাদারকে (আওয়ামীলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের)বালু তোলার কাজ দেয়। এখন এদের সাথে আরেকটি রাজনৈতক দলের নেতারা মিলেমিশে এই কাজ করছে।
এই ব্যাপারে অনেকে ভয়ে কথা বলতে রাজি হননি তারপরও স্থানীয়বাসিন্দা রাকিব, সজিব, হেলাল সহ অনেকে জানান, আগে বালু তোলার কাজটি করতো পতিত সরকারের লোকজন। এখন আ্রয়ামীলীগ ও অন্য দলের লোকজন মিলেমিশে বালু তোলার কাজটি করছে। এতে প্রকৃতি ও মানুষের ক্ষতি করে তারা কোটি কোটি টাকা কামাই করছে।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির জানান, অভিযোগ পেলে সরেজমিনে গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিখন বনিক জানান, নদীর ১ কিলোমিটার দূর থেকে বালু তুলতে বলা হয়েছে। তারপরও তারা যদি কাছ থেকে তুলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



