― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ভোটারবিহীন নির্বাচনের পথ বিপজ্জনক, সুষ্ঠু নির্বাচনেই মুক্তি— সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
“৫ আগস্ট যে বিপ্লবের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তার পেছনে ১৫ বছরের ভোটারবিহীন শাসনের গভীর ক্ষত রয়েছে,”— বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “দেশকে রেললাইন থেকে ট্রেনচ্যুত করা হয়েছিল ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন দিয়ে। এখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে তুলতে।”

আজ শনিবার (২১ জুন ) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “কেউ যদি আবার ভোটারবিহীন নির্বাচনের পথে এগোয়, তবে তার পরিণতি অতীতের মতোই হবে। ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন জনগণ আর মেনে নেবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব, এর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যেসব জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা আগে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করুক, এতে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই।”

সরাসরি ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমরা চাই, কিন্তু দশটি হুন্ডা, ২০টি গুন্ডা, ৪০টি ডান্ডা—এই ‘নির্বাচন ঠান্ডা’—এটা হতে দেওয়া হবে না।”

ডা. তাহের বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে দেশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠিত হোক—লোয়ার হাউস ও আপার হাউস। আপার হাউস হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত এবং কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার হাতে ইতোমধ্যে একটি নোবেল পুরস্কার রয়েছে। চাইলে আরও একটি পেতে পারেন। এই বিচ্যুত বাংলাদেশকে সঠিক রেললাইনে তুলে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করুন।”

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশ ইতিবাচক পথে অগ্রসর হচ্ছে। জনগণের মধ্যে আশাবাদের জন্ম হয়েছে। কিন্তু অতীতের মৌলিক সংস্কারগুলো এখনও হয়নি, যা বড় প্রতিবন্ধক। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে অবস্থান নিতে হবে। দেশের মানুষ অনেকটাই জেগে উঠেছে—এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বৈষম্য ও দলকেন্দ্রিক প্রশাসন মানুষ আর মেনে নেবে না। অনেক দলকে দেখে মানুষ শান্তি পায়নি, এখন ইসলামী শাসন দেখতে চায়।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বরিশাল মহানগর আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল জব্বারসহ পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।