নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। দিন যত সামনে এগুচ্ছে, জোটে ভাঙা-গড়া, দলে ভাঙন, ছোট দল ছেড়ে বড় দলে যোগ দেওয়া, এমনকি কেউ কেউ জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে দল বিলুপ্ত করছে, আবার কেউ দলের শীর্ষ পদ ছেড়ে বড় দলে যোগ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ক্ষমতার দৌড়ে টিকে থাকার একটি অভিনব কৌশল। যোগ দেওয়া নেতারা অবশ্য আদর্শগত মিল ও ভোট কৌশল বিবেচনায় বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য এমন করছেন।
দেশে ভোটের রাজনীতিতে দলবদল নতুন নয়। বড় দলগুলো আসন ছাড়লেও মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা ও সীমিত ভোটব্যাংকের কারণে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, তাই বড় দলগুলোও আসন ছাড়তে বিভিন্ন হিসাব করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলোর নেতারা বড় দলের ছায়াতলে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এতে তাদের নিজস্ব দলগুলো বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি তিনটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রধান দল বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
আর এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিএনপিতে যোগ দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা তো অভিনব। তোরা যে যা বলিস ভাই, আমাদের এমপি হওয়া চাই। যেকোনো মূল্যে, যেকোনো শর্তে। কারণ এমপি হওয়ার সঙ্গে মধু যুক্ত আছে। ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠি যুক্ত।’
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এসব ঘটনায় অবাক হওয়ার মতো কিছু দেখি না। আমাদের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দর্শন বা মতাদর্শ কখনো কাগুজে ফাঁকা বুলির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।’



