― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

গণভোটের প্রচারে সরকারের উদাসীনতা, বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

প্রায় তিন যুগ পর দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। দেশে এর আগে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের গণভোটের একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার গণভোটের সিদ্ধান্ত নিলেও মাঠপর্যায়ে ভোটারদের গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণায় স্পষ্ট ঘাটতি চোখে পড়ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণায়ও গণভোট যেন প্রায় অনুপস্থিত।

তবে, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে ব্যানার, লিফলেটসহ, উঠান বৈঠক এবং তথ্য অফিসগুলোর উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। দলগুলো নিজ নিজ দলের জন্য জোট গঠন, আসন বন্টন ও নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও গণভোট নিয়ে তাদের তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের গণভোটগুলোর সঙ্গে এবারের গণভোটের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে সরকারের যেমন ‘ম্যাসিভ প্রচারণা’ করতে হবে। তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে এর সাথে। তা না হলে গণভোট সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্ব হারাবে।

সংস্কার ইস্যুতে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে সরকার পর্যাপ্ত প্রচার চালাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গণভোট সম্পর্কে সরকারের প্রচারণার অভাব রয়েছে। আমরা তাদের বলেছি এ বিষয়ে প্রচার করতে।

গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক। ‘কোন পথে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে সুজনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করেন মো. আজিজ গাজী। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে কোনো প্রচার দেখেছেন কি না?

উত্তরে জনাব আজিজ বলেন, ‘এলাকায় তো এমন কিছু দেখি না। তবে প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে অনেকে ভোট চাইতে আসেন। তারা শুধু মার্কা আর প্রার্থীর কথাই বলেন। গণভোটের কথাতো কিছু বলেন না।’

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলম। গণভোট নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি সোজাসাপ্টা বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে আমি তো কিছুই জানি না। ভোট দিতে যাব পছন্দের মার্কায় ভোট দিয়ে আসব।’

এতো গেল প্রান্তিক জনপদের মানুষের কথা। এবার আসা যাক, দেশের রাজধানীর সাধারণ মানুষের কথায়।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গণভোটের বিষয়ে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। অনেক ভোটার গণভোট সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না।

ঢাকা-১২ আসনের কামরাঙ্গীরচরের রহমতবাগ এলাকার বাসিন্দা শাহিন আলম (৪৮)। পেশায় মুদি দোকানদার। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলেও পরবর্তী নির্বাচনে ভোট দেননি তিনি।

আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভোট তো অবশ্যই দিতে যাব। পরিবারের সবাইকে নিয়েই যাব।’

তবে গণভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা দ্বিধায় পড়েন। তিনি বলেন, ‘শুনেছি এবার গণভোট হবে। টিভিতে আলোচনা শুনেছি। কিন্তু ভালো করে বুঝি নাই।‘

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা গণমাধ্যমে বলেছেন, আমাদের দেশের ৬৪টি জেলা ও চারটি উপজেলায় তথ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। গণভোট বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা একেবারে লামা ও বান্দরবান পর্যন্ত চলে গেছে। একইভাবে দেশের উত্তর প্রান্ত তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচার কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘ভোটের গাড়ি’ বা সুপার ক‍্যারাভান। যা সারা দেশে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোটের বিষয়ে জানাবে। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গণভোট প্রচারের দায়িত্ব সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলোরও প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করি। তবে এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি, মূলত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ই এই দায়িত্ব পালন করছে।

গণভোট হলো কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রস্তাব, আইন বা নীতি নিয়ে জনগণের সরাসরি মতামত জানার জন্য অনুষ্ঠিত একটি ভোট প্রক্রিয়া, যেখানে ভোটাররা তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে সিদ্ধান্ত দেন।

প্রসঙ্গত, এবারের গণভোট করতে চারটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রশ্নগুলো হলো ১. নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের মতামত জানাতে পারবেন।