― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

বিপদসীমার ১০০ সেমি ওপরে মেঘনা: মনপুরায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি ১০ হাজার

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি মারাত্মক রূপ ধারণ করে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপজেলার বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার জেরে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ১০ হাজার মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মেঘনার পানি বিপদসীমার এক মিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হঠাৎ ধেয়ে আসা এই বন্যায় উপজেলার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

ভৌগোলিক ও কাঠামোগতভাবে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন। জোয়ারের তোড়ে এখানকার চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিন তালুকদার। এছাড়া ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ‘ষাট কলোনি’র বাসিন্দারা বুকসমান পানির মুখোমুখি হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। কলোনির ষাটটি পরিবারের অনেককে জীবন বাঁচাতে ঘরের টিনের চালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে, যা ওই অঞ্চলের তীব্র মানবিক সংকটকে ফুটিয়ে তুলছে।

বন্যার কারণে উপজেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র ‘রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট’ সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। ঢাকাগামী একমাত্র এই ঘাটটি তলিয়ে যাওয়ায় শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জোয়ারের পানি ডিঙিয়ে লঞ্চে যাতায়াত করছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বিবি জানান, দৈনিক দুই বারের জোয়ারের পানিতে তাদের জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে রাতের জোয়ারে শিশুরা চরম অনিরাপত্তা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

এই চরম বিপর্যয়ের মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশবিদরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ধেয়ে আসা এই জলোচ্ছ্বাস থেকে দ্বীপের সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থায়ী ও শক্তিশালী সিসি ব্লক সম্বলিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।