― Advertisement ―

বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক স্বার্থে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদার’ বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের প্রধান খাতগুলোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার বেইজিংয়ের সাংগ্রি-লা সার্কেলে...

বাংলাদেশের ওপর ভারতের ভূ-অর্থনৈতিক প্রভাব অক্ষুণ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও পারস্পরিক বাগ্‌যুদ্ধ চলছে। তবে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের তিনদিক থেকে সীমান্তঘেরা ভারতের। খাদ্য ও জ্বালানি আমদানি এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল নির্ভরতাসহ নানা কারণে বাংলাদেশের ওপর ভারতের ভূ-অর্থনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।

হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশীদের ভিসা দেওয়া সীমিত করেছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চলছিল। তাতে মনে হতে পারে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও বানিজ্যিক টানাপড়েন বেড়েছে।

তবে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারত বাংলাদেশে রফতানি করেছে প্রায় ১ হাজার ১৪৯ কোটি ডলারের পণ্য। এর আগের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের রফতানি ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে খাদ্যশস্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হলেই আমদানির অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে ভারত। চাল ও পেঁয়াজের মতো প্রতিদিনের ভোগ্যপণ্য এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ঘাটতি, মৌসুমি সরবরাহে সমস্যা কিংবা বাজারে কারসাজি যে কারণেই সংকট তৈরি হোক না কেন, আমদানির বড় অংশই আসে ভারত থেকে।

তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে পাঁচ শতাধিক সুতাকল বা স্পিনিং মিল রয়েছে। তার পরও প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সুতা আমদানি করতে হয়। যার বেশির ভাগই ভারত থেকে আসে।

ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি এপ্রিলে বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। তবে বিধিনিষেধ আরোপের পরও ভারত থেকে সুতা আমদানি কমেছে সামান্যই। কারণ সমুদ্রবন্দর দিয়ে সুতা আসতে শুরু করে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এ সরবরাহের অবদান দাঁড়াচ্ছে ১৫ শতাংশের বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের কয়েকটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে কিছু স্তর এমন যেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব। প্রয়োজন থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে। বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা যেতে পারে, সরকারের করাও উচিত। তবে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি কত দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং এতে খরচ বাড়বে কিনা এসব বিষয় তো আছেই।’

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যদিও সম্প্রতি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনও লক্ষ করা গেছে। তবু পরিসংখ্যান বলছে যে এ টানাপড়েন বাংলাদেশের প্রতি ভারতের রফতানিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে উভয় দেশের মধ্যে পণ্যের চাহিদা, বাজারের সক্ষমতা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা একটি বাস্তব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় পণ্যের প্রতি বাংলাদেশের বাজারে যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা এ রফতানি প্রবণতার একটি বড় কারণ। পাশাপাশি দুই দেশের ভৌগোলিক নিকটতা, সাংস্কৃতিক মিল ও আন্তঃনির্ভরশীলতা এ বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো গভীর ও স্থিতিশীল করে তুলেছে।’