নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৩ সালের ২৮ জুলাই সকালে মামার বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তৎকালীন ১৮ বছরের এক তরুণী। এরপর গুম ও ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরদিন সকালে খালে একটি গাছের গুঁড়ির সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ভাসমান অবস্থায় ভুক্তভোগী তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল বরিশালের হিজলা উপজেলার পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামে।
এই ঘটনার ১২ বছর পর আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এই রায় দিয়েছেন বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলাম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হিজলা উপজেলার পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের ইসরাফিল আকনের ছেলে কবির আকন (৩২) ও একই গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর ছেলে আ. জব্বার ব্যাপারী (৪৫)।
রায়ের পর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মোখলেচুর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দুইদিন পর ৩০ জুলাই নিহত তরুণীর মামা হিজলা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এরপর ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই সকালে তরুণী বাড়ি ফেরার পথে কবির আকন তাঁকে টেনেহিঁচড়ে একটি বাগানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করে।
পরে জব্বার ব্যাপারীও সেখানে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরে দুজন মিলে তরুণীকে হত্যা করেন এবং লাশ শিলনিয়া খালে গাছের গুঁড়ির সঙ্গে বেঁধে রেখে দেন।
অনেক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে ১২ বছর পর আজ মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
টিবিএম/জ/রা



