নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় নির্বাচন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথামার্ধেই হতে যাচ্ছে—এমন খবরে জনমনে এক ধরনের স্বস্তি দেশের সর্বত্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়েছেন। শোভাযাত্রাও হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনসহ কয়েকটি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে শঙ্কা-সন্দেহ ও মতবিরোধ ছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখন ঐকমত্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। সমাধানের পথে জাতীয় জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যু।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার ২৩৭ আসনে বিএনপি সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করায় মুহূর্তে পালটে যায় মাঠের চিত্র। একই দিন এনসিপিও প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক আংশিক তালিকার খসড়া ঘোষণা করেছে।
এর আগে জামায়াতও প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে। সব দলের অধিকাংশ প্রার্থী আসনভিত্তিক প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সুষুম নির্বাচন দেশবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের কোনো সমস্যা হবে না।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, নৌ ও বিমানবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি থাকবেন ৯০ হাজার সেনা সদস্য। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে বেজে উঠেছে নির্বাচনি দামামা।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয়-সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। দেশ দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে চলেছে। সারা দেশে নির্বাচন নিয়েই আলোচনা।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতে সময়ও বেশি নেই। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও আরো উন্নতি ঘটাতে হবে। সব পক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এটি করা অসম্ভব কিছু নয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় যদি সরকার শুরুতেই ঘোষণা করত, রাজনৈতিক এসব দ্বন্দ্ব সামনে আসত না। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটের জন্য প্রস্তুত। এ মুহূর্তে আরও বেশি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানুষ যুক্ত হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা মতবিরোধ ছিল। আবার সবাই এখন নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হচ্ছেন। এখন কেউ যদি নির্বাচনে বাধা দিতে আসে, সেটা হবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। কারণ, আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে হওয়া বাংলাদেশের জন্য খুব প্রয়োজন। যদি সঠিক সময়ে নির্বাচন না হয়, দেশই সংকটে পড়বে।
এদিকে কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে-জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে।
সূত্রমতে, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধ, তা সমাধানে পর্দার আড়ালে চলছে নানা বৈঠক-আলোচনা। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন উপদেষ্টা দলগুলোকে ঐকমত্যে আনার চেষ্টা করছেন। এর অগ্রগতিও আছে। যার ফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।



