নিজস্ব প্রতিবেদক
পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন রাষ্ট্র প্রধান মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। যাতে সবশেষ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিশ্বের ইতিহাসে রাষ্ট্র প্রধানদের পতন অনেক সময়ই সহিংস হয়েছে। তবে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বিরল ও নাটকীয় ঘটনার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ড বা বিচারিক মৃত্যুদণ্ড।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অনেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে ছিল স্বৈরাচারী শাসন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। এসব অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সাধারণত বিপ্লব, অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ বা গণ-অপরাধের বিচারের পর এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ইতিহাসে এমন অনেক রাজা, একনায়ক ও নির্বাচিত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বা মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন এবং অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক দশক পর আদালত পুনরায় রায় পর্যালোচনা করেছেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও বিভিন্ন কালপর্বে বিশ্বের অন্তত ৪৭ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাস, রাজনীতি ও ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
তবে দন্ড পাওয়া সবার রায় কার্যকর করা যায়নি বা হয়নি। অনেকে রায় ঘোষণার আগেই দেশ থেকে পালিয়েছেন। অনেকের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সাজা হ্রাস পেয়েছে। এ-যাবৎকাল ৪৮ জনের মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৩৫ জনের।
১৯৬৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছর রুমানিয়ার শাসক ছিলেন নিকোলাই চাউশেস্কু। এরপর রুমানিয়ার কমিউনিস্ট শাসন ভেঙে পড়ার সময় ১৮৮৯ সালে চাউশেস্কু ও তার স্ত্রীর দ্রুতগতির এক সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়। গণহত্যা ও অর্থনৈতিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হন এবং বড়দিনের দিন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আধুনিক রুমানিয়ার ইতিহাসে এটিই ছিল শেষ মৃত্যুদণ্ড।
চসেস্কুর আগে আরেক রোমানিয়ান সরকারপ্রধান ইয়ন আন্তোনেস্কুও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার শাসনকালে রোমানিয়া জার্মান নাৎসি জোটের সঙ্গে মিত্রতা বজায় রেখেছিল।
রোমানিয়ায় বসবাসরত ইহুদি ও রোম জনগণকে নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ১৯৪৫ সালে রোমানিয়ান পিপলস ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৯৪৬ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিতো মুসোলিনি ১৯২২-১৯৪৩ সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মিত্রশক্তির অগ্রযাত্রায় একসময় দেশ থেকে পালাতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ধরা পড়ে যান। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ১৯৪৫ সালের ২৮ এপ্রিল গুলি চালিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আইভান বাগরিয়ানোভ। তিনি ১৯৪৪ সালে এ দায়িত্ব পালনকালে নাৎসি জোটের পক্ষাবলম্বনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে তাকে পিপলস ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৯৪৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। তবে বহু বছর পর ১৯৯৬ সালে দেশটির আদালত আইভানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। এরপর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাকিস্তানের এই নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং এক বিতর্কিত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করেছিলেন।
দোব্রি বোঝিলোভ ছিলেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তার শাসনামলের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তার দণ্ডাদেশও ১৯৯৬ সালে আদালত প্রত্যাহার করে নেয়।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাদ্দাম হোসেন ১৯৭৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র–নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দুজাইল গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইরাকি ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এটি ছিল তৎকালিন সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বগদান ফিলভ ছিলেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী (১৯৪০-৪৩)। তিনি নাৎসি জার্মানির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। বিশ্বযুদ্ধ শেষে সোভিয়েতপন্থী জনতার আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ১৯৪৫-এর ফেব্রুয়ারিতে তার মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করা হয়। অবশ্য ১৯৯৬ সালে তার এ রায়ও প্রত্যাহার করে নেয় দেশটির আদালত।
ভিডকুন কুইসলিং ছিলেন একজন নরওয়েজিয়ান সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি নরওয়ের সরকারপ্রধান ছিলেন। নাৎসি সহযোগীর ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগে ১৯৪৫ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটি।
১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ১০ বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেলাল বায়ার। এর আগে তিনি ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ১৯৬১ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সাজা হ্রাস করা হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।
১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত জাঁ বেদেল বোকাসা ছিলেন সেন্ট্রাল আফ্রিকান এম্পায়ারের প্রধান। ১৯৭৯ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। তার অনুপস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশে ফেরেন এবং আপিলে তার সাজা হ্রাস পায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন চুন দু হুয়ান। তাঁর শাসনামলে ১৯৮০ সালের গুয়াংজু গণহত্যাসহ রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করা, বিরোধীদের নিপীড়ন করার অভিযোগ ছিল। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তার সাজা কমানো হয়। তিনি পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। চুন দু হুয়ান ২০১৯ সালে স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর আমলে আমির-আব্বাস হোভেইদা ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি শাহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ইসলামী বিপ্লবের পর তাকে দুর্নীতি ও শাহের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১৯৭৯ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
ফার্দিনান্দ মার্কোস ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। তিনি মার্শাল ল শাসন চালু করেছিলেন। দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সে রায় পরবর্তী সময়ে হ্রাস করা হয়। তিনি ১৯৮৯ সালে স্বাভাবিক অবস্থানয় মৃত্যুবরণ করেন।
প্যাট্রিস লুমুম্বা কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৬০ সালে স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে বন্দি হন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৬১ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
নিরক্ষীয় গিনির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রান্সিসকো মাকিয়াস এনগুয়েমা। তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তার শাসনামলে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এসব অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তা কার্যকর করা হয়েছিল। তিনি আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর একনায়ক হিসেবে পরিচিত।
আফগানিস্তানে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ। তালেবান অভ্যুত্থানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তালেবান।
পৃথিবীর ইতিহাসে আরো অনেক সম্রাট, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বিভিন্ন অপরাধে কিংবা কখনো কখনো রাজনৈতিক বিবাদের কারণে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে আধুনিক সময়ে পাওয়া যায় এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট গেরার্দো বারিওস (১৮৫৯-৬৫), রুশ জার (১৮৯৪-১৯১৭) দ্বিতীয় নিকোলাস।
চীনের জাতীয় সরকার কমিটির চেয়ারম্যান (১৯৪৪-৪৫) চেন গংবো, চীনে জাপানি দখলদারদের সহযোগী সরকারের চেয়ারম্যান (১৯৩৮-৪০) লিয়াং হোংঝি, সেন্ট্রাল আমেরিকান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট (১৮৩০-৩৯) ফ্রান্সিসকো মোরাজান, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান (১৯৭৭-৯১) মেংগিস্টু হাইলে মারিয়াম।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৩-৫৫) ইম্রে নাগি, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫০-৬০) অ্যাডনান মেন্দেরেস, লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট (১৮৭০-৭১) এডওয়ার্ড জেমস রয়, কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা (২০০১-১৯), স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট (১৯৩৯-৪৫) যোজেফ টিসো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৪১-৪৪) হিদেকি তোজো, হাঙ্গেরির সরকারপ্রধান (১৯৪৪-৪৫) ফেরেঞ্চ সালাশি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট (২০০১-০৮) পারভেজ মোশাররফ, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট (১৯৬৭-৭৩) জর্জিও পাপাডোপুলোস, দাহোমের (বর্তমানে বেনিন) প্রেসিডেন্ট (১৯৬৮-৬৯) এমিল ডারলিন জিনসু, মালির প্রেসিডেন্ট (১৯৬৮-৯১) মুসা ট্রাওর, ভিচি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান (১৯৪০-৪৪) ফিলিপ পেতাঁন, কঙ্গো ব্রাজাভিলের রাষ্ট্রপ্রধান (১৯৬৩-৬৮) আলফনসে মাসাম্বা-দেবাটের নাম রয়েছে।
এছাড়া প্রাচীন ও মধ্যযুগেও অনেক শাসক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে আছেন চীনের কিন রাজবংশের শাসক লি সি, ২০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আছেন কিন রাজবংশের ইং জিয়িং ও ঝাও গাও এবং সঙ রাজবংশের সম্রাট ঝাও জিয়ান। আরো আছেন চীনের জিন রাজবংশের শাসক সিমা চি ও সিমা ইয়ে। এদের শাসকাল ছিল ৩০৭ থেকে ৩১৬ খ্রিস্টাব্দ। সং রাজবংশের ওয়েন তিয়ানঝিয়াং দ্বাদশ শতাব্দীতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস। তার আগের শতকে একই দন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন রানী লেডি জেন। স্কট রানী মেরির প্রাণ যায় শোড়শ শতাব্দীতে। ফ্রান্সের রাজা লুই ষোড়শের প্রাণ যায় অষ্টাদশ শতাব্দীতে।



