ডেস্ক রিপোর্ট:
মধ্যরাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৯টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ভারত। ভারতের এ হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহতদের মধ্যে দুইটি শিশু রয়েছে বলে বিবিসিকে জানান তিনি।
সবশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এ হামলার মধ্যদিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।
এদিকে, ভারতের সেনাবাহিনী তাদের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছে, ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকার ভিম্বার গলিতে কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করেছে পাকিস্তান।
এর আগে ভারতের দুইটি বিমান এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান।

ভারত সরকারের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছে। এর আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের ৯টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কোনো স্থাপনাকে এই অভিযানে নিশানা করা হয়নি।
গত ২২শে এপ্রিল ভারত শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো।
পাকিস্তানের যেসব এলাকায় হামলা হয়েছে, সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে বিবিসি’র প্রতিনিধি কথা বলেছেন।
পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা শাহনওয়াজ বলেন, ‘আমরা তখন বাড়িতে গভীর ঘুমের মধ্যে ছিলাম, বিস্ফোরণের শব্দে আমরা কেঁপে উঠি। এখন আমাদের পরিবার, নারী ও শিশুদের নিয়ে কোনও একটা নিরাপদ স্থানের খোঁজে ঘুরছি। শহরে এখন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে, আরও হামলার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।’
মুজাফফরাবাদের বিলাল মসজিদের পাশে যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে, সেখানকার এক বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, “প্রথম বিস্ফোরণে আমার বাড়ি যখন কেঁপে ওঠে, তখন আমি গভীর ঘুমের মধ্যে ছিলাম।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ।



