নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরা এলাকার চাঞ্চল্যকর মহিউদ্দিন ঈসা (২০) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ তুহিন (২২) ও মোঃ নাহিদ (১৪) নামে দুইজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সোমবার দিবাগত রাতে ডিএমপির কাফরুল থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনায় আসামী মোঃ নাহিদকে বরগুনার মহিষকাটা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অটো চালক মহিউদ্দিন ঈসার লাশ জেলার দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের রুহিতপুর এলাকার জনৈক মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদারের তরমুজ ক্ষেত সংলগ্ন টং ঘরের ভিতর মাচার উপর খড়কুটা দিয়ে ঢাকা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
অটো ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা করা হয় মহিউদ্দিনকে বলে জানান পুলিশ।
মৃত মহিউদ্দিন ঈসার বাড়ি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ইটবাড়ীয়া গ্রামে।
তার পিতার নাম মোঃ জাফর ফকির। মহিউদ্দিন পেশায় একজন অটোচালক।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ২ টায় পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ জানান, গত ০৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে অটো চালক মহিউদ্দিন তার অটো নিয়ে নিজ বাড়ি হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় । পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে
জেলার দশমিনা থানাধীন আলীপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের রুহিতপুর এলাকার জনৈক মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদারের তরমুজ ক্ষেত সংলগ্ন উত্তর পাশের একটি ঘরের ভিতর মাচার উপর খড়কুটা দিয়ে ঢাকা রক্তাক্ত অবস্থায় মহিউদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এর জন্য জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।
পুলিশ বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দশমিনা থানাধীন আলীপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা একটি কাঁচা রাস্তার উপর মহিউদ্দিনের অটোগাড়ি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত মোঃ নাহিদ একজনকে সনাক্ত করে।
পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি নাহিদের নানা বাড়ি বরগুনার আমতলীর মহিষকাঠা থেকে আসামি নাহিদকে গ্রেফকার করে পুলিশ।
আসামী গ্রেফকারকৃত আসামি নাহিদ বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
আসামী নাহিদ অটো ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে অটো চালক মহিউদ্দিনকে হত্যা করে বলে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।
এর পর আসামি তুহিনকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দিবাগত রাতে আসামী মোঃ তুহিনকে ডিএমপির কাফরুল থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
আসামি তুহিনের বাড়িও পটুয়াখালীর সদর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে। সে গ্রামের মোঃ সেলিম হাওলাদারের ছেলে।
পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ জানায়, এই হত্যাকান্ডের মূল কারণ উদঘাটন হয়েছে। মূল আসামির বাড়ি ও অটো চালক মহিউদ্দিনের বাড়ি একই এলাকায়।
মহিউদ্দিনের অটোটি ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে এই হত্যাকান্ড । হ্যান্ডক্যাপে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অটোগাড়ীটি।
জব্দ করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি বাংলা দা,ভিকটিমের ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি জোড়া জুতা ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল সেট।
বিএম/জ/রা



