হিমালয়কন্যা নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও কাদাধসে নিহতদের স্মরণে রাজধানী ঢাকার গুলশান শাহাবুদ্দিন পার্কে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি। গুলশান সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোরের সদস্য ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধস ও পর্বতধসের পর সুনামির মতো ধেয়ে আসা তীব্র কাদা ও পানির তোড়ে তলিয়ে যায় বিস্তৃত এলাকা। এ ঘটনায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশটির ভোটে কোশি অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৫,০৮৩ জন মানুষ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেই চলছে উদ্ধার তৎপরতা। এই প্রাকৃতিক ট্র্যাজেডিতে গত ২৭ আগস্ট শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।
দুর্গত নেপালিদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। উত্তর নেপালের ভয়াবহ প্লাবন ও কাদাধসে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) আর্থিক অনুদান দিয়েছে ঢাকা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের রাষ্ট্রদূতের কাছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই সহায়তার বার্তা আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর উদ্দেশ্যে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক শোকবার্তাও রাষ্ট্রদূত ভাণ্ডারীর হাতে তুলে দেন। এই অর্থ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর নেপাল দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রতিমন্ত্রী।
নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে বের করতে একটানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা। বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ১৬৬ জনকে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মুহূর্তে কাঠমান্ডুর পাশে রয়েছে।



