নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার সকাল থেকে একাধিক কারণ দেখিয়ে সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানায় দল দুইটি।
এ খবর রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়লে ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে। সেখানে দল দুইটি স্বাক্ষরের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি, অন্যদিকে বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে তারা সই করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ডাকা জরুরি বৈঠকে দলগুলো যে অবস্থান তুলে ধরেছে তাতে তাদের মধ্যে মতভিন্নতা দূর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। মূলত, সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার বিষয়ে দলগুলো একমত হলেও এর সময় ও পথ-পদ্ধতি নিয়েই মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জামায়াত সনদে স্বাক্ষর করতে পারে। এনসিপিও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরে রাজি হবে। তবে, বেশ কয়েকটি বামপন্থী দল এতে সই করবে না। দলগুলো হচ্ছে সিপিবি, বাসদ, বাসদ মার্ক্সবাদী, জাসদ ও গণফোরাম।
সনদে থাকা সূচনা বক্তব্য, চার মূলনীতি ও অঙ্গীকারনামাসহ একাধিক সংস্কারে আপত্তি তুলে ধরে সই করবে না বলে জানিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
সংলাপে অংশ নেওয়া একাধিক দলের নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হোক চায় না বলে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। গতকাল সন্ধ্যার বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সনদে স্বাক্ষর করতে আপত্তি নেই বিএনপির।
বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা আশা করছি জাতীয় সনদ যে প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আপনারা যে জায়গায় উপনীত হয়েছেন, এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সনদে আমরা স্বাক্ষর করতে পারব। এটাই আমরা আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির দিকগুলো সম্পূর্ণরূপে শেষ করার চেষ্টা করছি। এ সনদ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের জন্য আরও একটু সময় নেওয়ার থেকে দ্রুততার দিকে যাওয়ার আমরা চেষ্টা করেছি।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি জাতীয় সনদ যে প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আপনারা যে জায়গায় উপনীত হয়েছেন, এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সনদে আমরা স্বাক্ষর করতে পারব। এটাই আমরা আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির দিকগুলো সম্পূর্ণরূপে শেষ করার চেষ্টা করছি। এ সনদ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের জন্য আরও একটু সময় নেওয়ার থেকে দ্রুততার দিকে যাওয়ার আমরা চেষ্টা করেছি। এ অনুষ্ঠানে আমরা চাই জাতীয় নেতারা ছাড়াও যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত সেসব অতিথি উপস্থিত থাকুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র বৃহস্পতিবার থেকে পাঠানো হবে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বল্প সময়ে যেন সব দলের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘আজ কিছু বিভ্রান্তি বিভিন্ন দিক থেকে প্রচারিত হয়েছে। আমাকে অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং সাংবাদিক ফোন দিয়েছেন। আমি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হচ্ছে। পাশাপাশি আপনাদের দিক থেকে যে সহযোগিতা অব্যাহত আছে, তাতে আমরা আশাবাদী যে, একটি আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমরা এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটা সম্পূর্ণ করব।’
রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহীল কাফি রতন।
এ ছাড়াও গণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, ১২ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ৩১টি দল ও জোটের নেতারা।



