― Advertisement ―

‘নিষ্প্রভ’ কেইনের কাঁধে সতীর্থদের আস্থার হাত

বুন্ডেসলিগায় গোলের পর গোল করে ইউরোতে খেলতে এসে নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এখনও দেখা যায়নি তার সেরা চেহারা। তবে এনিয়ে একদমই...

গোল্ডেন বুটের লড়াই তুঙ্গে: ১০ গোল নিয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে, ফাইনালে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ

বিশ্বকাপ ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াই এখন চূড়ান্ত ও রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে থেকে এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ফরাসি এই সেনসেশনের একক আধিপত্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচের আগে মেসি গোল্ডেন বুটের প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এমবাপ্পের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহানাটকীয় ও হাই-স্কোরিং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে হেরে গেলেও, দলের হয়ে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৪টি গোল করিয়েছেন (অ্যাসিস্ট) এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ফুটবলার এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি।

অন্য দিকে, শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। সমীকরণের বিচারে মেসির সামনেও প্রথমবারের মতো গোল্ডেন বুট উঁচিয়ে ধরার এক দারুণ সুযোগ রয়েছে। স্পেনের রক্ষণভাগ ভেঙে ফাইনালে যদি মেসি হ্যাটট্রিক বা ৩টি গোল করতে পারেন, তবে ১১ গোল নিয়ে তিনি এককভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট নিজের করে নেবেন।

হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) বিশেষ টাইব্রেকার নিয়মের কারণে মেসির সামনে গোল্ডেন বুট জেতার আরও কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বুট বিজয়ী নির্ধারণের জন্য সবার আগে খেলোয়াড়দের মোট গোলসংখ্যা বিবেচনা করা হয়। গোলসংখ্যা সমান হলে দেখা হয় গোল করানোর ক্ষেত্রে কার অবদান বেশি অর্থাৎ অ্যাসিস্ট সংখ্যা।

যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট—উভয় ক্ষেত্রেই দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে পূর্ণ সমতা বিরাজ করে, তখন বিবেচনা করা হয় মাঠে কোন ফুটবলার তুলনামূলকভাবে কম সময় বা মিনিট খেলেছেন। কম সময় মাঠে থেকে সমপরিমাণ গোল ও অ্যাসিস্ট করা ফুটবলারকেই টাইব্রেকারের নিয়মে গোল্ডেন বুটের আসল বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এই নিয়মের কারণে গোল্ডেন বুটের সমীকরণে কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে সময়ের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে মাঠে কাটিয়েছেন মোট ৭৬৪ মিনিট, যেখানে মেসির খেলার মোট সময় ৭১২ মিনিট। ফলে ফাইনালে মেসি যদি আর ২টি গোল করেন, তবে তিনি গোলসংখ্যায় এমবাপ্পের (১০ গোল) পাশে বসবেন। এই ক্ষেত্রে ট্রফি নিশ্চিত করতে তাঁকে অন্তত আরও ১টি অ্যাসিস্ট করতে হবে।

তবে স্পেনের বিপক্ষে মেসি যদি ২টি গোল করার পর কোনো অ্যাসিস্ট না পান, তাহলেও এমবাপ্পেকে টপকে যাওয়ার একটি গাণিতিক সুযোগ থাকবে। সেই ক্ষেত্রে ৭৬৪ মিনিটের সময়সীমা পার হওয়ার আগে, অর্থাৎ ম্যাচের ৫১ মিনিটের মধ্যে মেসিকে মাঠ ছাড়তে হবে। সব মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচের বাঁশির সাথে সাথে গোল্ডেন বুটের এই ঐতিহাসিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।