রিপন দাস, বগুড়া:
আমন আবাদে বগুড়ায় এ বছর ফলন হয়েছে কম। ধানের জাত ও মানভেদে ফলন কম হলেও গড় ফলন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অতি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো বাতাস হওয়ায় এবার আমনে ফলন কিছুটা কমেছে। এছাড়াও কৃষকেরা সার বেশি ব্যবহার করায় প্রভাব পড়েছে ফলনে। তবে জেলার পুরো কাটা-মাড়াই শেষ হলে গড় ফলন বাড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
বগুড়ায় ধান আবাদে সবচেয়ে এগিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার ৮৪ হাজার ৩৭৫ বিঘায় আমন চাষ হয়েছে। এলাকা ও জাতভেদে বিনা-১৭, ৭৫ ও ৯০ জাতের ধান আগাম কাটায় ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ৭/৮ মণ। কাটারী ও ৯০ জাতের ধান প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ৯/১০ করে। তবে ৪৯ জাতের ধান এখনও পুরোপুরি কাটা মাড়াই শুরু হয়নি। কৃষকেরা ধারণা করছেন এবার ১৪ থেকে ১৫ মণ হারে পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, বগুড়া সদর উপজেলার ছোট সরলপুর এলাকায় কাটারী জাতের ধানের ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় ১৪/১৫ মণ। ধানের মানভেদে বিক্রি হয়েছে গড়ে ১৬শ টাকা থেকে ১৮শ টাকা পর্যন্ত। এ উপজেলায় প্রতি বিঘা আমন চাষে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা। তবে ধানের দাম বেশি হওয়ায় খুশি চাষিরা।
কৃষক মোঃ জাহিদুল প্রামানিক জানিয়েছেন, “এ এলাকায় গত বছরের চেয়ে এবার ধানের ফলন হয়েছে বেশি। তবে পুরোপুরি কাটা-মাড়াই শুরু হয়নি। তবে ধানের জাত ও মানভেদে দামের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ৪৯ জাতের ফলন হয়েছে সবচেয়ে বেশি।”
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষক মোঃ মহসিন আলী জানিয়েছেন, “সাড়ে ১০ বিঘায় এবার আমন আবাদে গত বছরের চেয়ে ফলন হয়েছে কম। ড্যাপ সার ব্যবহার করায় ফলন কমেছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও কোম্পানীগুলোর প্রতিযোগিতায় ওষুধের মান ভালো না হওয়ায় ধান চাষে প্রভাব পড়েছে দাবী এই কৃষকের।”
একই উপজেলার দামগাড়া এলাকার কৃষক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, “পাঁচ বিঘা জমিতে ৭৫ জাতের ধান চাষে এবার ফলন হয়েছে ৭/৮ মণ করে। এ এলাকায় প্রতি বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াইয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত বছরের চেয়ে প্রায় গড়ে দুই হাজার টাকা বেশি।”

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ গাজিউল হক জানান, “বিনা-১৭, ৭৫ ও ৯০ জাতের ধান কর্তন হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পুরো কাটা-মাড়াই শুরু হলে গড় ফলন বাড়বে। ফলন কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, ঝড়ো বাতাস ও কৃষকেরা বেশি পরিমাণে সার ব্যবহার করায় ওইসব জমিতে ধানের ফলন কম হয়েছে।”
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ বিঘা জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ মণ। গড়ে ২২ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়েছে। চলতি মাসের পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ কাটা-মাড়াই শেষ হবে বলে জানান, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল রহমান।



