নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইছে জামায়াতে ইসলামী সহ আট দল। পদত্যাগ দাবি করলেও তারা এই তিন উপদেষ্টার নাম এখনো প্রকাশ করেনি। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া আট দল এবার নতুন এই দাবি যুক্ত করেছে।
দলগুলোর সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তিন উপদেষ্টার বিষয় অবহিত করা হয়েছে। দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, তারা মনে করেন এই তিন উপদেষ্টা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। এই অবস্থায় তাদের উপদেষ্টা পরিষদের থাকা উচিত নয়।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) নির্ধারিত বৈঠক শেষে তিন উপদেষ্টার নাম প্রকাশ কিংবা প্রধান উপদেষ্টাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।
দলগুলোর সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দুই তরুণ উপদেষ্টার বিষয়ে আট দল প্রবল আপত্তি তুলেছে। এ ছাড়া একজন সিনিয়র উপদেষ্টা আছেন এই তালিকায়। শিগগিরই এসব উপদেষ্টাকে অপসারণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত আট দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা জানান, আর রবিবার বৈঠকের পর এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। জামায়াতের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে তিন উপদেষ্টার নাম জানতে চাইলে তিনি কারও নাম বলতে রাজি হননি। তবে দুই তরুণ উপদেষ্টার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা তো আপনারাই জানেন।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজ ও ঢাকায় নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশের জেরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় জামায়াতের। এছাড়া তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দুইটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে। যদিও ওই দুইটি স্ট্যাটাসের মধ্যে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুছে ফেললেও অনলাইনে তার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া এই দুই উপদেষ্টা বিএনপি’র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এমন কথাও বলছেন জামায়াত নেতারা। গত মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সবশেষ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে গত মাসে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পর্কের অবনতি হয়। যা থেকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরূকরণের আভাস মেলে। জামায়াত ও এনসিপি’র দূরত্বের পেছনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়াও ইসলামী ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতে কিছু নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়েও মাহফুজ আলমের প্রতি বিরূপ মনোভাব জামায়াত নেতাদের।
এ বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই তিন উপদেষ্টা বিএনপি’র প্রতি ঝুঁকে রয়েছেন এবং সরকারকে মিসগাইড করছে। তাই তাদের অপসারণ দাবি করছি। প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের নাম দেবো, এরপরও ব্যবস্থা না নিলে নাম প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি বিবেচনা করবো।



