নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শহরে স্থাপন করা হয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মিশন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে বাংলাদেশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে মিশনটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

মানবাধিকার মিশনের উদ্দেশ্য:
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করা । সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
বাংলাদেশে মিশন কি কি কাজ করবে:
মিশনের কাজ হবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত আইন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে কোনো সামাজিক এজেন্ডা প্রচার না করে শুধু মানবাধিকার রক্ষা ও সুরক্ষায় সহায়তা দেওয়া।
কেন মানবাধিকার মিশন নিয়ে উদ্বেগ?
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আইডিওলজিকাল ওরিয়েন্টেশন (আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের কয়েকটি পক্ষ।
বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন চুক্তিতে সই করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। অবিলম্বে চুক্তি বাতিল না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
কি থাকছে মিশন ও সরকারের চুক্তিতে:
বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)-এর মধ্যে মানবাধিকার মিশন স্থাপন সংক্রান্ত তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
ওএইচসিএইচআর এর মিশনটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও মোকাবিলার মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকবে।
ওএইচসিএইচআর-এর মিশন কেবল গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জোর দেবে। বিশেষত পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে।
এই মিশন দেশের আইনি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহি ও সংস্কার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক অঙ্গীকার হিসেবেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, যদি কখনো দেশের অংশীদারত্ব আর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে সরকার চুক্তি থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে আসার অধিকার রাখে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শনিবার (১৯ জুলাই) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
টিবিএম/জ/রা



