ইংল্যান্ড অবশেষে তাদের পাঁচ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো। সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচই জিতে তারা ৫ ম্যাচের সিরিজের জয় নিশ্চিত করেছে, হাতে রয়েছে আরও দুটি ম্যাচ।
গ্রস আইলেটের ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ইংল্যান্ডের বোলিং ছিল দুর্দান্ত। সাকিব মাহমুদ ও জেমি ওভারটনের জাদুকরি বোলিংয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই চাপের মধ্যে পড়ে। সাকিব ১৭ রানে ৩ উইকেট এবং ওভারটন ২০ রানে ৩ উইকেট নেন। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬.১ ওভারের মধ্যেই ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে।
কিন্তু অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল এবং রোমারিও শেফার্ড তাঁদের দৃঢ়তায় দলের রানকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পাওয়েল ৪১ বলে ৫৪ রান করেন, যেখানে ৪টি ছক্কা এবং ৩টি চারের মার ছিল। শেফার্ড ২৮ বলে ৩০ রান করে দলের স্কোর কিছুটা টেনে তোলেন। এরপর আলজেরি জোসেফ ১৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট স্কোর ছিল খুবই কম—১৪৫ রান।
ইংল্যান্ডও তাদের ইনিংসে শুরুতে বিপদে পড়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যে তারা ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু স্যাম কারান এবং উইল জ্যাকসের চার নম্বর উইকেট জুটি দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে। ৩৩ বলের মধ্যে তারা ৩৮ রান যোগ করেন। জ্যাকস ৩২ রান করে আউট হয়ে যান, তবে কারান আরও দায়িত্বশীলভাবে ব্যাট করতে থাকেন। স্যাম কারান ২৬ বলে ৪১ রান করেন এবং লিয়াম লিভিংস্টোন ২৮ বলে ৩৯ রানের ম্যাচ নির্ণায়ক ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন।
এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার আকিল হোসেন দুর্দান্ত বোলিং করেন এবং ২২ রানে ৪টি উইকেট নেন, তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ তাকে পরাস্ত করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৪৫/৮ (পাওয়েল ৫৪, শেফার্ড ৩০; সাকিব ৩/১৭, ওভারটন ৩/২০)
– ইংল্যান্ড: ১৯.২ ওভারে ১৪৯/৭ (কারান ৪১, লিভিংস্টোন ৩৯, জ্যাকস ৩২; আকিল ৪/২২)
– ফল: ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী
– ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব মাহমুদ
ইংল্যান্ড ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।



