― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

একেকটি ট্রেন ধুতে সরকারের গচ্চা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন ধোয়ার জন্য ৩৮ কোটি টাকায় দুটি স্বয়ংক্রিয় ধৌতকরণ ব্যবস্থা বা ওয়াশিং প্ল্যান্ট কিনেছিল।

একটি স্থাপন করা হয় ঢাকার কমলাপুরে, অন্যটি রাজশাহীতে। ২০ মাসের মাথায় প্ল্যান্ট দুটি বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, দুটি প্ল্যান্ট দিয়ে ২ হাজার ৯২৯ বার ট্রেন ধোয়া সম্ভব হয়েছিল। হিসাব করে দেখা যায়, প্ল্যান্ট দুটি স্থাপনে যে ব্যয় হয়েছে, তাতে প্রতিটি ট্রেন ধোয়ার পেছনে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রচলিত ব্যবস্থায় হাতে ট্রেন ধুতে খরচ হয় ১ হাজার টাকার মতো।

ওয়াশিং প্ল্যান্ট নামে যে ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে মূলত কিছু স্বয়ংক্রিয় ব্রাশ, সাবানপানি ও সাধারণ পানি ছিটানোর ব্যবস্থা এবং কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা ছিল।

সাধারণ এই ব্যবস্থা তৈরিতে এত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তখনই। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক দিন ধরে প্ল্যান্ট দুটি বন্ধ। সেগুলো পুনরায় চালু করতে আরও বিনিয়োগ দরকার, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

প্ল্যান্ট দুটি চালানো হতো বিদ্যুতের সাহায্যে। ট্রেন ধোয়ার কাজে পানি ও ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হতো। এর পরিচালনায় থাকা লোকবলসহ সব খরচ ধরলে প্রতিটি ট্রেন ধোয়ার পেছনে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

রেলওয়ে সব সময় চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে ট্রেন ধোয়ার কাজ করে থাকে। শ্রমিক, পানির ব্যবহারসহ সামগ্রিকভাবে একটি ট্রেন ধোয়ার পেছনে এক হাজার টাকাও খরচ হয় না।

অন্যদিকে ওয়াশিং প্ল্যান্ট দুটি কেনা হয়েছিল কোচ কেনার একটি প্রকল্পের আওতায়। রেলের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার মত, শুধু প্রকল্প বড় করার জন্যই এই যন্ত্র কেনা হয়েছিল।

রেলের কিছু কর্মকর্তা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর আগ্রহে যন্ত্র দুটি কেনা হয়।

রেলওয়েতে রক্ষিত দুটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট পরিচালনা–সংক্রান্ত তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালের নভেম্বরে ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলো ঘটা করে উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

ঢাকার প্ল্যান্টটি ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মোটামুটি চালু ছিল। এরপরই সমস্যা শুরু হয়। গত বছর মে মাসে মাত্র দুটি ট্রেন ধোয়া হয়। এরপর এর কোনো ব্যবহার হচ্ছে না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট কেনার জন্য শুরুতে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার। পরে ব্যয় বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা হারুনুর রশিদ জানিয়ে দেন এই কেনাকাটায় বাড়তি খরচ (ভ্যারিয়েশন) সম্ভব নয়।

পরে ফকির মো. মহিউদ্দিন প্রকল্প পরিচালক হয়ে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বাড়তি ব্যয় যোগ করেন। সব মিলিয়ে দুটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট কেনা ও স্থাপনে ব্যয় হয় ৩৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, তখন রেলের প্রয়োজনেই ওয়াশিং প্ল্যান্ট কেনা হয়েছিল। এখন নতুন কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করলে আবারও চালু করা যাবে।

এর জন্য আরও কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। নতুন করে বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো

বিএম/জ/রা