― Advertisement ―

ইরানে ‘সীমিত’ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: যুদ্ধের মেঘ নাকি আলোচনার কৌশল?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইরানে ‘সীমিত আকারে’ সামরিক হামলার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নতুন একটি চুক্তিতে বাধ্য করতেই এই চাপের কৌশল নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সমরশক্তি বৃদ্ধি এবং ইরানের পাল্টাহুশিয়ারি বিশ্ববাসীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব দেখতে পাবে ইরান কোনো চুক্তিতে আসবে নাকি সেখানে গর্জে উঠবে মার্কিন যুদ্ধবিমান—প্রেসিডেন্টের এমন আল্টিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরান শান্তিপূর্ণ জ্বালানির আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে। যদিও ইরান বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাদের কর্মসূচিকে ‘পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ’ বলে আসছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও, ট্রাম্পের এই রণহুঙ্কার সেই বিশ্বাসের জায়গাটিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড দ্রুতগতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সাগরে মার্কিন ডেসট্রয়ার ও যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ কেবল ইরান নয়, পুরো বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মাঝে ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা রহস্যময়তা বজায় রেখেছেন। তিনি প্রায়শই তাঁর কৌশলের কথা গোপন রাখতে পছন্দ করেন যাতে প্রতিপক্ষকে সবসময় অন্ধকারে রাখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চুক্তি অথবা যুদ্ধ’ নীতি মূলত তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নতিস্বীকার করাতে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব তাঁর দেশের ভেতরেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। জরিপ বলছে, অবৈধ অভিবাসী দমন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে নিজ দেশের জনগণের একটি বড় অংশ তাঁর ওপর নাখোশ। গত বছর ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনে জয়ের পথে তিনি মার্কিন যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছিলেন। এখন যদি তিনি ইরানে কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁর মূল সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল ধরতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় বাজি হতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে সেই ‘১০ দিনের’ দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের ভাগ্য।