মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে ইরাকের মাটিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিজের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরাকভিত্তিক প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথার দাম এক কোটি মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গালফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জারিকৃত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাটি দেওয়া হয়। আইআরআই তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের কোনো ব্যক্তি, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো স্বাধীন গোষ্ঠী যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তবে তাকে এই প্রতিশ্রুত অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হবে। গোষ্ঠীটি ট্রাম্পকে একজন ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং দাবি করেছে যে, তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের সদস্য ও বিশ্বব্যাপী সমর্থকদের যৌথ অনুদান থেকে এই বিশাল অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আরও উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ কখনো কাসেম সোলাইমানির মতো বীর এবং নিরপরাধ বিজ্ঞানী ও শিশুদের হত্যাকারীদের ক্ষমা করবে না। স্বৈরাচারী শাসকেরা পৃথিবীর কোথাও কখনো স্থায়ী শান্তি পাবে না এবং মজলুম মানুষের তীব্র ক্ষোভ থেকে এই অপরাধী কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না। ইরাকি এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি তাদের যোদ্ধাদের জন্য এই প্রতিশোধ নেওয়াকে একটি আদর্শিক ও বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার বলে অভিহিত করেছে। শহীদদের পবিত্র রক্ত খুব দ্রুতই অহংকারী ও আগ্রাসনকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দখলদার বাহিনী সম্পূর্ণ পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সশস্ত্র লড়াই অব্যাহত থাকবে।
দীর্ঘদিন গোপন রাখার পর সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকেই ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে ও সগর্বে স্বীকার করেন যে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি মিলিশিয়া পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের শীর্ষ নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, তার মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা তিনি নিজেই ছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তির পরপরই ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত শক্তিশালী এই ইরাকি গোষ্ঠীটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই নজিরবিহীন আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেয়, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউজ বা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।



