― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অর্থনীতির শ্বেতপত্রে শেখ হাসিনার শাসনামলের লুটপাটের চিত্র উন্মোচিত

ডেস্ক রিপোর্টঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত অর্থনীতির শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের আর্থিক দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র। গত ১৫ বছরে অন্তত পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে এবং প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের নামে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এর ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ লুটপাট হয়েছে। উন্নয়নের মোড়কে জনগণকে বিভ্রান্ত করে উচ্চ প্রবৃদ্ধির একটি কাল্পনিক গল্প সৃষ্টি করা হয়েছিল।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্বেতপত্রকে একটি “ঐতিহাসিক দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতিকে যেভাবে ভঙ্গুর অবস্থায় পেয়েছি, এই রিপোর্টে তা উঠে এসেছে। এটি দেশের জনগণের জন্য প্রকাশ করা উচিত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।”

শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও আমলাদের জন্য রাজনৈতিক সুবিধার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অধিকাংশের ব্যয় ছিল অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি, এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, উন্নয়ন প্রকল্পে খরচের বড় অংশ ছিল রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং মিথ্যা ব্যয়ের মাধ্যমে লুটপাট। শুধুমাত্র পদ্মা রেলসংযোগ সেতু প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা, অথচ রেল চলে মাত্র ১০টি ট্রেন।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, সরকারের মদদে একটি গোষ্ঠী রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের আয় কমলেও, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

প্রতিবেদন জমাদানের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার আগামীতে ২৫-৩০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এসব ঋণের বড় অংশ বিতরণ করা হয়েছে ২০১৭ সালের পর।

শ্বেতপত্র প্রকাশ কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।” শ্বেতপত্রে অর্থনীতির ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদনের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ আজ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এতে ২৪টি অধ্যায়ে দুর্নীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।