― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

হাসিনাকে রক্ষায় গোপন সভা: দুই বছরেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ববির আওয়ামী শিক্ষকরা

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিতর্কিত ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একদল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই বছরের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক ‘গোপন বৈঠক’ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সরাসরি হুমকির অভিযোগ ওঠার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো কোনো বিচারিক বা দাপ্তরিক শাস্তির মুখোমুখি হননি অভিযুক্ত শিক্ষকরা। উল্টো তারা বহাল রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী কয়েকজন শিক্ষককে প্রশাসনিক অব্যাহতি দেওয়ার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিচারহীনতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল একটি জাতীয় গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের একটি গোপন সভার ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হয়। সেখানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার অবস্থান রক্ষায় একাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবিকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করেন এবং যেকোনো মূল্যে আন্দোলন প্রতিহতের ঘোষণা দেন। ওই ভিডিওতে ১৩ জন শিক্ষক সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ মেলে।

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন চৌধুরী, তৎকালীন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবির, সাবেক প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইউম ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ইসরাত জাহানসহ অভিযুক্ত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রক্টর ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং রাতে মেসে মেসে তল্লাশি চালানো হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন পদত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমের আমলেও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের ১৪ মে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ ববির ৭ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এখন পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ববি শাখার ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন ও ববি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম উভয়ই নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করে একটি নিরপেক্ষ জুডিশিয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”