কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে এক প্রকার কৌতুকপূর্ণ ইঙ্গিতও দেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছি কি না, তা আমার জানা নেই। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি পুরো হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড বলেই মনে করি।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই আন্তর্জাতিক জলপথটি বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহের প্রধান মাধ্যম। প্রায় ছয় মাস ধরে চলতে থাকা সংঘাতের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চেপে ধরতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ প্রবেশে কঠোর সামরিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অবরোধ কার্যকর রাখতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮টি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজকে বিকল্প সমুদ্রপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সমাবেশে নিজের অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের অংশ হিসেবে ‘দ্য স্নেক’ কবিতা আবৃত্তির ঠিক আগেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “আজ শুক্রবার রাত। আমাদের হাতে এখনও প্রচুর সময় রয়েছে। এখন আমার কী করা উচিত? ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়ে ইরানের ওপর আরেকটু বেশি বোমা ফেলা উচিত?”
সম্প্রতি নিউইয়র্কের পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্য এবং পরবর্তীতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক মানচিত্রেও হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনভিপ্রেত দাবি কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘বিভ্রান্তিকর ও বাস্তববিবর্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।



