স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ড আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২১ জুন, ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক এই আবেদন পেশ করেন। আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের বেঞ্চে আসামির উপস্থিতিতে আগামী বুধবার এই রিমান্ড আবেদনের ওপর মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে। সিএমএম কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ সংবাদমাধ্যমের কাছে রিমান্ডের আবেদনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) দীর্ঘ নাট্যীয়তা শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন অভিনেতা জাহের আলভী। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ঘটনার সময়ে আলভী নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনটি সরাসরি নামঞ্জুর করে আলভীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাবাসের মাত্র তিন দিনের মাথায় ডিবির পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নতুন করে এই ডকেট দাখিল করা হলো।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস (DOHS) এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ৩০ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আফরা ইবনাত ইকরাকে উদ্ধার করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন ১ মার্চ পল্লবী থানায় ইকরার পিতা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে অভিনেতা জাহের আলভী এবং তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিনের তীব্র পারিবারিক কলহ, ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।
২০১০ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা দম্পতির সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা আলভীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট অভিযান পরিচালনা করলেও তিনি আদালতে আত্মসমর্পণের আগে পর্যন্ত অধরা ছিলেন। উল্লেখ্য, এই মামলার দ্বিতীয় আসামি এবং অভিনেতা আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি গত ৪ জুন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। ডিবির তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ইকরার আত্মহত্যার নেপথ্যে কোনো ব্ল্যাকমেইল বা সুপ্ত প্ররোচনা ছিল কি না, তা উদঘাটন করতেই মূল আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।



